টেলিটক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গাড়ি প্রতিষ্ঠানে ভাড়া দিয়ে ব্যবহারের অভিযোগ
রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সার্ভিস রুলস লঙ্ঘন, ব্যক্তিগত গাড়ি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেখিয়ে পরিবারসহ ব্যবহারের পাশাপাশি পদায়ন ও প্রকল্প পরিচালক হওয়ার জন্য প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া স্বাক্ষর জালিয়াতি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ব্যাটারি ক্রয় ও বিল পরিশোধে অনিয়ম এবং বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেনামে অভিযোগ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের দাবি, টেলিটকের প্রচলিত সার্ভিস রুল ও অফিসের বিধিবিধান উপেক্ষা করে জামাল উদ্দিন তাঁর মালিকানাধীন ব্যক্তিগত গাড়ি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়েছেন। পরে ওই গাড়ি তিনি নিজে ও পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাড়ি ভাড়ার অনুমোদন, চুক্তি, বিল পরিশোধ এবং গাড়িটির প্রকৃত ব্যবহার—এসব নথি যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে। বিষয়টি নিবিড় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিজের পদায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরিচালক হওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে তদবির করারও অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বা প্রকল্প পরিচালক হওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। সেই সময় নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।
এদিকে টেলিটকের ডিজিটাল সার্ভিস ও আন্তর্জাতিক এসএমএস ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকার সময়ও জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময়ে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তার সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক এসএমএস ব্যবসা সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম রিজিয়নে ব্যাটারি ক্রয় করে তা সংশ্লিষ্ট বিটিএস সাইটে স্থাপন না করেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের অভিযোগও রয়েছে জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে ক্রয়াদেশ, সরবরাহের কাগজপত্র, সাইটে ব্যাটারি স্থাপনের তথ্য এবং বিল পরিশোধের নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া টেলিটকের বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেনামে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক পরিবেশকে প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জামাল উদ্দিনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা আরও স্পষ্ট হবে। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে (০১৫৫......৩০) একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ডিআর




Comments