Image description

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. আবু হানিফ (৩০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এ ঘটনায় আবু হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আবু হানিফ উপজেলার ৪ নম্বর মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী তরুণী উপজেলার ৭ নম্বর গাগলাজুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আবু হানিফের চাচাতো বোনের স্বামীর শ্যালিকা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আবু হানিফ ওই তরুণীকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় নয় মাস আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হানিফ তাঁকে সিলেটে নিয়ে যান। সেখানে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি হানিফকে জানালে তিনি তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত স্বর্ণ ও রুপার অলংকার জোর করে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য হানিফ একাধিকবার তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সম্মতি না দেওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে হানিফের গ্রামের বাড়িতে বিয়ের রেজিস্ট্রি করার জন্য চাপ দিলে তিনি বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তরুণীর আরও অভিযোগ, হানিফ গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে তাঁকে ও অনাগত সন্তানকে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার তিনি মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, আবু হানিফকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এসএ