Image description

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় আমন ধানের জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রাতের আঁধারে ইঁদুর ধানের গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলায় অনেক জমিতে দেখা দিয়েছে ফাঁকা জায়গা। ধানের বাড়ন্ত বয়সে এমন আকস্মিক উপদ্রবে আমনের ফলন মারাত্মক কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পাইতালী, মির্জাপুর, কাতলাকান্দর ও লাহাবাড়ি এবং কসবা ইউনিয়নের কাজলা, কসবা, কালইরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ইঁদুরের এই তাণ্ডবের বিষয়টি জানা গেছে। কৃষকরা জানান, ধানের গাছ বেড়ে ওঠার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রতিদিন রাতে নতুন নতুন গাছ কেটে সাবাড় করছে ইঁদুরের দল।

ফতেপুর ইউনিয়নের পাইতালী গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলাম জানান, তিনি ১৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ১২ বিঘা জমিতেই ইঁদুর আক্রমণ চালিয়েছে। চরম দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দিনের বেলায় তেমন কিছু বোঝা যায় না। রাতে ইঁদুর ধানের গাছ কেটে নষ্ট করে। জমিতে গিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন গাছ কাটা দেখতে হচ্ছে। সময়মতো ইঁদুর দমন করা না গেলে ফলন অনেক কমে যাবে।”

একই উদ্বেগের কথা জানান আরেক কৃষক মানিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ধান চাষে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন ধান ভালোভাবে বেড়ে উঠছিল। কিন্তু ইঁদুরের কারণে গাছ নষ্ট হচ্ছে। আমরা নিজেদের মতো করে দমন করার চেষ্টা করছি, কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।”

কৃষকরা আরও জানান, ইঁদুর শুধু গাছ কেটেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; জমির আইল ও আশপাশে অজস্র গর্ত তৈরি করেও ক্ষতি করছে। ফলে দ্রুত কার্যকর ও সম্মিলিত উদ্যোগ না নিলে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণে বাড়বে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে নাচোল উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। বিপুল পরিমাণ জমিতে আমন চাষ হওয়ায় ইঁদুরের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ইঁদুরের উপদ্রব বিষয়ে নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ্ আকরাম বলেন, “ইঁদুর আমন ধানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কৃষকদের এককভাবে নয়, বরং সমন্বিতভাবে ইঁদুর দমন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জমির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং ইঁদুরের গর্ত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও জানান, ইঁদুর দমনে ব্রোমাডিওলন, ব্রোমাডিন, সুরমা বিষ অথবা আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব বিষ বা ফাঁদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও অনুমোদিত নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করার অনুরোধ জানান তিনি।

কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেবল একক কোনো কৃষক উদ্যোগ নিলে সুফল পাওয়া কঠিন। এলাকার সব কৃষক একজোট হয়ে জমির আইল, আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও গর্ত চিহ্নিত করে আক্রমণ চালালে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। অন্যদিকে, মাঠে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সরাসরি সহযোগিতা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

ডিআর