যুক্তরাজ্যে আইএলআর-এর নতুন নিয়ম ঘিরে দ্বন্দ্ব, অনিশ্চয়তায় হাজারো বাংলাদেশি
যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার প্রস্তাব নিয়ে সরকারের ভেতরেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। নতুন প্রস্তাবে কিছু খাতে কর্মরত বিদেশিদের আইএলআর পাওয়ার সময় ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার কথা বলা হয়েছে। এতে যুক্তরাজ্যে কর্মরত হাজারো বাংলাদেশি ও তাদের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন।
লেবার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে কমিউনিটিজ সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার এর বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, করোনা মহামারির পর কর্মী সংকটের সময় যেসব বিদেশি কর্মী যুক্তরাজ্যে এসে কাজ শুরু করেছেন, তাদের ওপর পেছনের তারিখ থেকে নতুন নিয়ম চাপানো ঠিক হবে না।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশেষ করে সোশ্যাল কেয়ার বা সেবাখাতে কর্মরত কিছু বিদেশি কর্মীর আইএলআর পাওয়ার সময় ১৫ বছর হতে পারে। অথচ অনেক কর্মী পাঁচ বছর কাজ করার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশায় যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার বিদেশি কেয়ার ওয়ার্কার নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব কর্মীর স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিপুল অভিবাসনের কারণে দেশটির আবাসন, শিক্ষা ও সামাজিক সেবায় চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে এরই মধ্যে লেবার পার্টির প্রায় ১০০ জন এমপি বিদেশি কেয়ার কর্মীদের নতুন নিয়মের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলে যুক্তরাজ্যের সোশ্যাল কেয়ার খাতে কর্মী সংকট আরও বাড়তে পারে।
এদিকে লেবার পার্টির সম্মেলনকে সামনে রেখে ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসনও নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তারা ১৫ বছরের প্রস্তাব বাতিল এবং স্থায়ী বসবাসের সহজ পথ চালুর দাবি জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের সোশ্যাল কেয়ার খাতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক পদ খালি রয়েছে এবং এই খাতের বড় একটি অংশের কর্মী বিদেশি।
প্রস্তাবিত ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ ব্যবস্থায় সাধারণভাবে আইএলআর পাওয়ার সময় ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। তবে উচ্চ আয়ের কিছু পেশাজীবী এবং এনএইচএসের নির্দিষ্ট চিকিৎসক ও শিক্ষকদের জন্য তুলনামূলক কম সময়ে আইএলআর পাওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু সোশ্যাল কেয়ার কর্মীর জন্য ১৫ বছর অপেক্ষা এবং ইংরেজি ভাষায় নির্দিষ্ট দক্ষতার শর্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।
তবে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিদেশি সোশ্যাল কেয়ার কর্মীদের নতুন নিয়মের বাইরে রাখার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ফলে যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশি কেয়ারার ও তাদের পরিবারগুলো সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
এসএস




Comments