৫৪ কিলোমিটার সড়ক, দুর্ভোগ শুধু দেড় কিলোমিটারে
৫২ কিলোমিটার কাজ শেষ, চারঘাট-বাঘায় ভাঙাচোরা পথে দুর্ভোগ
৫৪ কিলোমিটার সড়কের সাড়ে ৫২ কিলোমিটারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশই যেন পুরো সড়কের স্বস্তিকে ম্লান করে দিয়েছে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও ইট ও মাটির স্তূপ, আবার কোথাও জমে আছে পানি-কাদা। বর্ষায় দুর্ভোগ বাড়ে, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় নাকাল হতে হয় পথচারী ও যানবাহন চালকদের। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা চারঘাট ও বাঘা উপজেলা সদরের এই দেড় কিলোমিটার সড়ক এখন ভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজশাহী থেকে নাটোর ও পাবনা হয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের দূরত্ব কমিয়েছে পুঠিয়া-চারঘাট-বাঘা-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়ক। ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫৪ কিলোমিটার এ সড়কের সাড়ে ৫২ কিলোমিটার কাজ প্রায় তিন বছর আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু অসম্পূর্ণ দেড় কিলোমিটার অংশের কারণে দূরপাল্লার গণপরিবহন, পণ্যবাহী ট্রাক ও স্থানীয় হাজারো মানুষকে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চারঘাট অংশে প্রায় ৫০০ মিটার এবং বাঘা অংশে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত, মাটি ও ইটের স্তূপ। বর্ষায় গর্তে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় ঢেকে যায় পুরো সড়ক। পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে যানবাহনের সময় লাগছে প্রায় ২০ থেকে ৪০ মিনিট। এতে তৈরি হচ্ছে যানজট, ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও। দুর্ভোগ এড়াতে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী অনেক ট্রাককে প্রায় ৫০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।
খুলনা-রূপপুর-রাজশাহী রুটের ট্রাকচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘দেড় কিলোমিটার সড়কের কারণে প্রায় ৫০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। এতে ট্রিপের সময় এলোমেলো হয়ে যায়। গাড়ির যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিন দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সাড়ে ৫২ কিলোমিটার কাজ শেষ হলেও দেড় কিলোমিটার অংশ ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে যায়। একাধিকবার দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার পরিবর্তন করা হলেও ওই অংশের কাজের গতি ফেরেনি।
২০২৫ সালের মার্চে আরসিসি ঢালাই ও ড্রেন নির্মাণের জন্য ২২ কোটি টাকার চুক্তি হলেও জমি খালি না থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবারও ১৯ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়।
সড়কের দুই পাশের দোকানপাট ভেঙে ফেলা হলেও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না।
চারঘাটের জমির মালিক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘জমি ও ব্যবসা হারিয়ে আমরা দিশেহারা।’
বাঘার ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ছয় বছর ধরে ব্যবসা প্রায় বন্ধ। সামান্য বৃষ্টিতেই দোকানের সামনে পানি জমে যায়।’
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চারঘাট উপজেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
চারঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাজশাহী বিমানবন্দর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কাজ শেষ করা দরকার।’
চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, প্রতি জেলা সভায় তিনি দেড় কিলোমিটার সড়কের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরছেন। তবে এখনো আশ্বাসের বাস্তবায়ন মেলেনি।
রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ আকন্দ বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজ বিলম্বিত হয়েছে। নতুন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক, ড্রেন ও আলোকায়নের কাজ শেষ করার আশা রয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. আরিফ হোসেন বলেন, আইনি ও কাগজপত্রের জটিলতায় কিছু ক্ষতিপূরণ বিলম্বিত হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসএ




Comments