Image description

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগরে একটি মহিলা মাদ্রাসার মাহিমা আক্তার মাহি (১২) ও মরিয়ম আক্তার তানিশা (১৩) নামে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী ৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে তারা আর বাড়ি ফেরেনি। এ ঘটনায় দুই কিশোরীর মায়েরা চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোসাইন।

নিখোঁজ মাহিমা আক্তার মাহি কাশিনগর ইউনিয়নের জুগীরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী মহি উদ্দিনের মেয়ে এবং মরিয়ম আক্তার তানিশা একই এলাকার দুবাই প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। তারা দুজনই কাশিনগর বাজারের ভুশ্চি রোডে অবস্থিত আল-আমিন মহিলা মাদরাসার যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। এক সঙ্গে দুই কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় তারা বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ছুটির সময় পার হয়ে বিকেল গড়িয়ে গেলেও তারা ঘরে না ফেরায় স্বজনরা মাদ্রাসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে তারা সেদিন মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়নি। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে শুক্রবার তানিশার মা সালমা বেগম ও মাহিমার মা তাসলিমা বেগম চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক জিডি করেন।

রোববার বিকেলে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহিমার এক চাচির টিকটক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাশের অলিপুর গ্রামের রেহান উদ্দিনের ছেলে মিনহাজ নামের এক কিশোরের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। মাহির নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা মিনহাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে কিছুই জানে না বলে দাবি করে। তবে এরপর থেকেই মিনহাজও এলাকা থেকে নিখোঁজ রয়েছে।

অন্যদিকে কাশিনগর বাজারের এক বিরিয়ানি হাউজে কর্মরত শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাটের আক্কাস ঢালীর ছেলে আরাফাত নামের এক যুবকের সঙ্গে তানিশার মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে পরিচয় ও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে। বিরিয়ানি হাউজের মালিক নজরুল ইসলাম জানান, আরাফাত গত কোরবানির ঈদে ছুটিতে বাড়ি গিয়ে আর কাজে ফেরেনি।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নিখোঁজ দুই কিশোরী কোনো সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়তে পারে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করা না গেলে বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে বলে আতঙ্কে রয়েছে পরিবারগুলো।

তানিশার মা সালমা বেগম ও মাহিমার মা তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘‘আমাদের দুটি মেয়ে নিখোঁজের পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। শুক্রবার জিডি করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান বের করতে পারেনি।’’

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ‘‘দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।’’

ডিআর