প্রাইমারী নিয়োগের নতুন আলোচনায় ফেনীর কাইয়ুম, বাদ সাত শতাধিক সুপারিশপ্রাপ্ত
লিখিত-মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ, কারণ জানেন না প্রার্থীরা!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন ফেনী জেলার তরুণ আব্দুল কাইয়ুম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্তও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন। কেন বাদ পড়েছেন, তার কারণ জানেন না কাইয়ুম।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র জারির আদেশ দেওয়া হলেও প্রকাশিত তালিকায় তার নাম পাওয়া যায়নি। হতাশ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও প্রশ্নের কথা জানিয়েছেন তিনি। কাইয়ুমের দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও নেই। তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশনে তাকে কেন বাদ দেওয়া হলো-এ প্রশ্নের জবাব চান তিনি।
কাইয়ুমের মতো শুধু একজন নন, ২৭ জেলার সাত শতাধিক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য এসেছে। তাদের অনেকেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগপত্র প্রকাশের পর তালিকায় নিজেদের নাম না পেয়ে তারা কারণ জানতে চাইছেন।
এর আগে ১৫ জেলার অন্তত ৩৫১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ১২০, বগুড়ায় ৪৮, পাব-নায় ৩৫, চাঁদপুরে ২৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ এবং মানিকগঞ্জে ২২ জন রয়েছেন। আরও কয়েকটি জেলায় একই ধরনের অভিযোগ থাকায় প্রকৃত সংখ্যা সাত শতাধিক হতে পারে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়োগপত্র জারির পর নিজের ফেসবুক আইডিতে হতাশা প্রকাশ করে কাইয়ুম জানান, যোগ্যতা দিয়ে চাকরি পাওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন এবং এর কারণ তাকে জানানো হয়নি। তিনি এ বিষয়ে রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেন। কাইয়ুমের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিষ্ট পিনাকী ভট্টাচার্যের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
আব্দুল কাইয়ুমের মতো সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্রশ্ন-চূড়ান্ত ফলাফলে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার পর যদি পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ কেন জানানো হবে না? তাদের দাবি, স্বচ্ছতার স্বার্থে প্রত্যেক প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং অভিযোগ থাকলে তা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
তবে বিষয়টি শুধু কাইয়ুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন জেলার প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। ফলে বঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রার্থীদের অভিযোগ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ তাদের স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। ফলে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনে কী তথ্য পাওয়া গেছে এবং কোন ভিত্তিতে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে-তা প্রকাশের দাবি উঠেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগসংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে পূর্ব কার্যকলাপ সন্তোষজনক না হলে কিংবা নাশকতা, সন্ত্রাসী, জঙ্গি বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থীকে চাকরির জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নির্ধারিত কাগজপত্র ও ভেরিফিকেশন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করলেও নিয়োগ আটকে যেতে পারে। অন্যদিকে, কাইয়ুমের দাবি অনুযায়ী তাকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি জানেন না। ফলে তার ক্ষেত্রে কোন তথ্য বা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়।
ডিআর




Comments