Image description

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানিসহ তাঁর শাশুড়িকে হাত-পা বেঁধে বিলে ফেলে রেখে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আগুনে টিনের বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। বর্তমানে আহত অবস্থায় গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (৩৫) ও শাশুড়ি কহিনুর বেগম (৫২) পটুয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামে ভোররাত ও সন্ধ্যার দিকে পৃথকভাবে এসব ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বেতকাটা গ্রামের আব্দুল বারেকের পরিবারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের মাঝের পাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম গংদের ৭.০১ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। উক্ত জমি আব্দুল বারেকের দখলে থাকলেও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহিনুর, শ্বশুর আব্দুল বারেক ও শাশুড়ি কহিনুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৩ মাস আগে প্রতিপক্ষরা তাঁদের কাছে ১ একর জমি ও ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মাছের ঘের থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। ক্রমাগত হুমকি-ধামকির মুখে আব্দুল বারেক ঘরছাড়া ছিলেন। শনিবার ভোররাতে প্রতিপক্ষের লোকজন বসতঘরে ঢুকে শাহিনুর বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। পরবর্তীতে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এরপর একই দিন রাত ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা পুনরায় হামলা চালিয়ে বৃদ্ধা শাশুড়ি কহিনুর বেগমকে মারধর করে হাত, পা ও মুখ বেঁধে দূরের একটি বিলে ফেলে রেখে আসে। এর পরপরই তাঁদের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে পুরো ঘর আগুনে ছাই হয়ে যায়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম সব দাবি অস্বীকার করে বলেন, "আব্দুল বারেকের সঙ্গে বেতকাটা গ্রামের বেল্লালের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। শনিবার খালে মাছ ধরা নিয়ে বেল্লালের ওপর বারেকের ছেলে বশির অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁদের ঘরে কীভাবে আগুন লেগেছে তা আমরা জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।"

এ ব্যাপারে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ডিআর