বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে চলেছে কচুরিপানা। উপজেলার অধিকাংশ পুকুর এখন কচুরিপানার দখলে চলে যাওয়ায় মিঠা পানির মাছ চাষ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসুমের পর থেকেই এলাকার জলাশয়গুলোতে অস্বাভাবিক হারে কচুরিপানা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে বর্তমানে পুকুর ছাড়িয়ে খাল-বিলেও এই কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু পুকুরের পুরো উপরিভাগ ঘন সবুজ কচুরিপানায় ঢেকে থাকায় ভেতরের পানিই দেখা যাচ্ছে না।
কচুরিপানার অতিপ্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার মিঠা পানির মৎস্যচাষীরা। জলাশয়ে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে না পেরে পানিতে অক্সিজেনের চরম ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, ফলে মরে যাচ্ছে মাছ। চাষীরা নতুন করে মাছের পোনা ছাড়তে পারছেন না। পাশাপাশি পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ায় গৃহস্থালি কাজ, রান্না ও গোসলের কাজে পুকুরের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জমানো কচুরিপানার নিচে মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় ডেঙ্গু ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষী রফিকুল ইসলাম কাজল আক্ষেপ করে বলেন, "আমার ২ বিঘার পুকুর পুরোটাই কচুরিপানায় ভরে গেছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা খরচ করেও পরিষ্কার করতে পারিনি; কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার কচুরিপানায় ভরে যায়।"
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, মোংলা উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৭৪৮টি পুকুর রয়েছে, যার বেশ কিছুতেই কচুরিপানার সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত এগুলো অপসারণ করা না হলে পুকুরের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি চাষীদের সমন্বিতভাবে পরিষ্কার অভিযানে নামার পরামর্শ দেন এবং মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এদিকে মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর যৌথ উদ্যোগে অবিলম্বে সরকারিভাবে কচুরিপানা অপসারণ কর্মসূচির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
ডিআর




Comments