সিঙ্গাপুরে জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অবিবাহিত সরকারি কর্মীদের জন্য ‘ফার্স্টডেট’ নামে নতুন ম্যাচমেকিং সেবা চালু করেছে সরকার। জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে এই সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
চলতি সপ্তাহে চালু হওয়া সেবাটিতে ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী অবিবাহিত সরকারি কর্মীরা অংশ নিতে পারবেন। প্রচলিত ডেটিং অ্যাপের মতো একসঙ্গে অনেক প্রোফাইল দেখার পরিবর্তে ‘ফার্স্টডেট’ একবারে একজন সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।
সেবাটিতে অংশ নিতে সিঙ্গাপুরের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর আগ্রহ, অভ্যাস ও মূল্যবোধ নিয়ে একটি প্রশ্নমালার উত্তর দিতে হবে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত জুটি নির্বাচন করবে বিশেষ একটি অ্যালগরিদম।
এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘গেল-শ্যাপলি স্টেবল ম্যারেজ’ অ্যালগরিদম। অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পাওয়া গণিতবিদ লয়েড শ্যাপলি এই অ্যালগরিদমের অন্যতম উদ্ভাবক।
সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে সিঙ্গাপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যতিক্রমী ও কৌতূহলোদ্দীপক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে পরীক্ষামূলকভাবে সেবাটি ব্যবহারে আগ্রহী। তবে সমালোচকদের কেউ কেউ শুধু সরকারি কর্মীদের জন্য সুবিধাটি সীমিত রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বয়সসীমা নিয়েও আপত্তি রয়েছে।
সিঙ্গাপুরে কয়েক বছর ধরে জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দেশটিতে এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩০ হাজারের নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার ৫০০।
নাগরিকদের পরিবার ও সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন আর্থিক সুবিধাও দিচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং প্রতিটি সন্তানের ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে ১৯৮৪ সালে অবিবাহিতদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট’ চালু করেছিল সিঙ্গাপুর সরকার। পরবর্তী সময়ে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
জন্মহার বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে অন্যান্য দেশেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাপানের টোকিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটিং অ্যাপ চালুরও নজির রয়েছে।
এসএস




Comments