আশুলিয়ায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুনে পুড়েছে ১০ পরিবারের জমানো সম্বল
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়েছে শ্রমিক কলোনির ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও সারা জীবনের জমানো সম্বল। আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা। এক রাতের আগুনে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
বুধবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের লাল পাহাড় এলাকার মহসিনের ভাড়া বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাড়ির একটি কক্ষে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত ভাড়াটিয়ারা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পান। আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বাড়ির মালিক মহসিন আহত হন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অল্প অল্প করে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও সঞ্চয় গড়ে তুলেছিলেন তারা। কিন্তু এক রাতের আগুনে তাদের সেই স্বপ্ন ও সঞ্চয় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কেউ হারিয়েছেন নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার, আবার কারও ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সর্বস্ব হারিয়ে এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় থাকবেন এবং কীভাবে নতুন করে সংসার শুরু করবেন—তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
বাড়ির মালিক মহসিন দাবি করেন, অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর মধ্যে আগুন পুরো বাড়ির ৩২টি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৩টি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব চৌধুরী জানান, বুধবার দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে ভোর ৪টা ১৬ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো এখন সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত আর্থিক ও মানবিক সহায়তা পেলে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।
এসএ




Comments