সংকটে সরকারি সহায়তা পেলে ঘুরবে আনিসুরের কারখানার চাকা
পাটশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে
নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর গ্রামের উদ্যোক্তা মোঃ আনিসুর রহমান। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বে গত ১৫ বছর ধরে পাটজাত পণ্য ও পাটের ব্যাগ প্রস্তুত করে তিনি একদিকে যেমন নিজের জীবিকা নির্বাহ করছেন।
অন্যদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনার ধাক্কায় তৈরি হওয়া আর্থিক সংকটে বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়েছে তার এই সম্ভাবনাময় উদ্যোগটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ব্যবহারের সুবিধা অনেক। এটি পচনশীল হওয়ায় পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। পক্ষান্তরে, বাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যাগ অপচনশীল হওয়ায় মাটি ও পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটায়। পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক বর্জন করে পাটের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের বড় দাবি।
নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে উদ্যোক্তা মোঃ আনিসুর রহমান জানান, করোনা মহামারীর আগে তার কারখানায় পুরোদমে কাজ চলত এবং সেখানে প্রায় ২০ জন কারিগর বা শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। কিন্তু করোনাকালে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ রাখতে হওয়ায় তিনি মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েন। কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে কারিগরেরা অন্য পেশায় ও বিভিন্ন স্থানে চলে যান। বর্তমানে তার কারখানায় ২টি তাঁত ও ২টি সেলাই মেশিন রয়েছে, তবে মূলধনের অভাবে তিনি বড় পরিসরে উৎপাদন চালু করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে এখন তিনি নিজেই যতটুকু সম্ভব একা একা পণ্য তৈরি করছেন।
আনিসুর রহমান আকুতি জানিয়ে বলেন, "সরকারিভাবে বা কোনো ব্যাংক থেকে যদি সহজ শর্তে ঋণ কিংবা আর্থিক সহায়তা পেতাম, তবে আবারও কারখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে পারতাম। এতে যেমন হারিয়ে যাওয়া শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতো, তেমনি দেশের পাট শিল্পে নিজের অবদান ধরে রাখতে পারতাম।"
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোসাঃ আতিয়া খাতুন বলেন, "পাট অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অর্থকরী শিল্প। সঠিকভাবে এ খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।"
তিনি আরও বলেন, "মান্দা উপজেলায় আনিসুর রহমানের মতো নিবেদিতপ্রাণ উদ্যোক্তা আছেন—বিষয়টি খুবই প্রশংসনীয়। আমরা অতি শীঘ্রই উক্ত উদ্যোক্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলব এবং তার বন্ধপ্রায় কারখানাটি পুনরায় সচল করে এই পরিবেশবান্ধব শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
সংশ্লিষ্টদের মতে, আনিসুর রহমানের মতো প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের পাশে যদি সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন হাত বাড়িয়ে দেয়, তবে শুধু আনিসুরের ভাগ্যের চাকাই ঘুরবে না, বরং পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি মুখ থুবড়ে পড়া দিশি পাট শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে।
এসএ




Comments