Image description

আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে বরিশাল জেলা ও মহানগরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ, রং-তুলির কাজ, মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও আয়োজকরা।

এ বছর বরিশাল জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬৩৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৫৯০টি এবং বরিশাল মহানগর এলাকায় ৪৭টি মণ্ডপ রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার একটি পূজামণ্ডপ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে।

বরিশাল নগরীর ফলপট্টি কালিমাতা ঠাকুরনীর মন্দির ও সদর রোডস্থ শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। অধিকাংশ প্রতিমার কাঠামো ও মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি; বাকি রয়েছে রং-তুলির কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন শিল্পীরা।

নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে কোথাও প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের কাজ, কোথাও চলছে মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন। আবার কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ ও আলোকসজ্জা। প্রতিটি মণ্ডপকে আকর্ষণীয় করে তুলতে আয়োজকদের মধ্যেও চলছে নানা প্রস্তুতি।

প্রতিমা শিল্পী রনজিৎ পাল জানান, রংসহ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। এতে আগের তুলনায় প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জায় ব্যয়ও বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বাড়তি শ্রম দিতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে নানা প্রস্তুতি। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, মহানগরীতে ৪৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার একটি মণ্ডপ বেড়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নগরীর কোনো পূজামণ্ডপ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি।

বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জী বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিমা নির্মাণ, রং ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব মণ্ডপের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। পূজাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও সিসি ক্যামেরাসহ নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজা উদযাপন পরিষদের সমন্বিত উদ্যোগে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।

এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভীন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক হাফিজুর রহমান হীরাসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে বরিশালের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতিতে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

ডিআর