আনোয়ারায় কিশোর গ্যাং ‘ডার্বি গ্রুপ’র ত্রাস
রায়হান-মারুফের চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জমি দখলে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কিশোর গ্যাং ‘ডার্বি গ্রুপ’-এর নেতৃত্বে থাকা রায়হান ও মারুফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হামলা, মাছের ঘের দখল ও ভূমিদখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। তাদের ভয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। প্রতিবাদ করলেই দলবল নিয়ে হামলা ও বাড়িঘরে আক্রমণের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিংহরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাং ‘ডার্বি গ্রুপ’ সক্রিয়। এই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন রায়হান ও মারুফ। সরকার পরিবর্তনের আগে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করলেও বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়হান সিংহরা গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে এবং মারুফ একই এলাকার প্রবাসী মো. হারুনের ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারধর, হামলা, মাছের ফাঁড় দখল ও জমি দখলের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি জাফর নামে এক ওয়াইফাই ব্যবসায়ীর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে রায়হান-মারুফের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে এলাকায় ব্যবসা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সিংহরা এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম সওদাগর বলেন, ‘রায়হান-মারুফ ডার্বি গ্রুপের মূল হোতা। তাদের কারণে এলাকায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজি, কান্দরিয়া খালের মাছের ফাঁড় দখল ও ভূমিদখলসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে তারা জড়িত। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।’
স্থানীয় বাসিন্দা শিমুল দত্ত বলেন, ‘সিংহরা গ্রামে হিন্দু-মুসলিম দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু রায়হান-মারুফের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘ডার্বি গ্রুপের রায়হান ও মারুফ পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। তাদের পাওয়া গেলে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হবে।’
ডিআর




Comments