Image description

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল পোস্ট অফিসের আওতাধীন ৩১টি গ্রামের ডাকসেবা পরিচালিত হচ্ছে মাত্র তিনজন কর্মীর মাধ্যমে। প্রয়োজনীয় যানবাহন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে এসব এলাকায় দ্রুত ডাক পৌঁছে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। অন্যদিকে, ডিজিটাল যোগাযোগের প্রসারে ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের আদান-প্রদান কমে যাওয়ায় ডাক বিভাগের পরিচিতি ও ব্যবহার নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশ্ব ডাক দিবসে ডাক বিভাগের সেবার মান বাড়ানো, কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল পোস্ট অফিসে কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

পূবাইল পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার জাহিদ হাসান বলেন, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ও ই-মেইলের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের আদান-প্রদান আগের তুলনায় কমেছে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক চিঠিপত্র ডাক বিভাগের মাধ্যমে আদান-প্রদান হচ্ছে। ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগের কারণে বিদেশ থেকে আসা চিঠির সংখ্যাও কমেছে।

তিনি বলেন, পূবাইল পোস্ট অফিসে পোস্টমাস্টার, একজন পোস্টম্যান ও একজন রানারসহ মোট তিনজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এ পোস্ট অফিসের আওতায় রয়েছে ৩১টি গ্রাম। এসব এলাকায় ডাক পৌঁছে দিতে অনেক সময় হেঁটে অথবা সাইকেলে চলাচল করতে হয়। ফলে দ্রুত ও সময়মতো সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পোস্টম্যানের জন্য মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা করা হলে ডাক বিতরণ আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

ডাক বিভাগের সেবার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে জাহিদ হাসান বলেন, সময়মতো সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সেবা দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করছে। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে ডাক বিভাগকেও আরও গতিশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডাক বিভাগের সেবা আধুনিকায়নে ধীরে ধীরে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব সুবিধা বাড়ানো গেলে বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ডাক বিভাগ আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারবে বলে আশা করছেন তিনি।

পূবাইল পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান চন্দন কুমার দাস বলেন, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে পোস্ট অফিস চালু রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় তাঁদের বেতন খুবই কম। যাতায়াতসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে মাসে ৪ হাজার ১৭৭ টাকা বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডাক বিভাগের কর্মীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে পোস্টম্যানের জন্য মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একসময় চিঠিপত্র আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল ডাক বিভাগ। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ ডাক বিভাগের ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন ও প্রযুক্তির প্রসারে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

বিশ্ব ডাক দিবস সম্পর্কে আগে থেকে জানা না থাকার কথা জানিয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ডাক বিভাগের প্রতি তাঁর শুভেচ্ছা রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে ডাক বিভাগের পরিচিতি বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেবার আধুনিকায়ন না হলে মানুষের আস্থা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ছোটবেলায় ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ব্যাপক প্রচলন দেখেছেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে ডাক বিভাগের কার্যক্রম আগের মতো চোখে পড়ে না। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এখন তাঁদের বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর করতে হয়। ডাক বিভাগের সেবাকে আরও উন্নত ও গতিশীল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের সেবার পরিধি ও মান বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে পূবাইল পোস্ট অফিসের আওতাধীন ৩১টি গ্রামের মানুষের কাছে দ্রুত ডাক পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় যানবাহন, পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সেবার প্রচার-প্রচারণা বাড়ানো গেলে ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

ডিআর