Image description

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকা নজিরবিহীন বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বহুল আলোচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের পর এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে আগত তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়, দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত সিজেপির এই বিক্ষোভ রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে রাজধানীজুড়ে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার সমর্থক জমায়েতের চেষ্টা করলে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও অধিকারকর্মীকে আটক করা শুরু হয়।

এর আগে হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে ইউটিবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। অন্যদিকে, দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরপরই বিমানে প্রবেশ করে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। বিমানের ভেতরেই নিজের আটকের পুরো ঘটনা ইনস্টাগ্রামে লাইভ প্রচার করে অভিজিৎ বলেন, "জরুরি অবস্থার সময়ও ইন্দিরা গান্ধী এমন দমনপীড়ন চালাননি। পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তবে আমরা সবাই গ্রেপ্তারের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত।"

উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি মেট্রোর অত্যন্ত ব্যস্ততম রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও কাশ্মীরি গেটসহ মোট ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান গেট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সাথে দিল্লি অভিমুখী ও ছাড়ার নির্ধারিত ২৫০টিরও বেশি দূরপাল্লার ও স্থানীয় ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বাতিল করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ঐতিহাসিক কর্তব্যের পথ ও জনপথ মোড়ের চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদী আন্দোলনে দিল্লিতে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল, যার জেরে দেশটির তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই স্মৃতি মাথায় রেখে এবারও বিক্ষোভ বড় আকারের রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিআর