শাহজাদপুরে মণ্ডপে মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কারিগররা। বাঁশ, কাঠ, খড় ও পাটের দড়ি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে মাটির কাজের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ কারুকাজে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব।
মাটির কাজ শেষ হলে রংতুলির আঁচড় ও সাজসজ্জায় প্রতিমাগুলো পাবে দৃষ্টিনন্দন রূপ। ইতোমধ্যে কোনো কোনো মণ্ডপে শুরু হয়েছে রং করার কাজ। পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে প্যান্ডেল নির্মাণ, আকর্ষণীয় তোরণ তৈরি ও আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। শরতের শুভ্র আবহে দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
চলতি বছর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের ৯২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শাহজাদপুর পৌরসভা এলাকায় ২৯টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে।
পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী বাণী পাঠাগার, বীণাপাণি পাঠাগার, কিশোর সংঘ ও ব্রতচারী সংঘ দুর্গামন্দিরে ঢাকা, ধামরাই, সাতক্ষীরা ও পাবনা থেকে আসা স্বনামধন্য মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করছেন। ধামরাই থেকে আসা অনন্ত পাল ও হেমন্ত পাল কিশোর সংঘ, সাতক্ষীরার প্রিন্স শীল পিন্টু বাণী পাঠাগার এবং গাজীপুরের সুমন পাল বীণাপাণি পাঠাগার দুর্গামন্দিরে তৈরি করছেন আধুনিক কারুকাজসমৃদ্ধ আকর্ষণীয় প্রতিমা।
এ ছাড়া উপজেলার প্রাণনাথপুর গ্রামের রঞ্জিত পাল ১২টি মণ্ডপে, গাড়াদহের সুদেব পাল আটটি মণ্ডপে এবং পাবনার শুভঙ্কর পাল পাঁচটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন। এসব প্রতিমা তৈরির জন্য শিল্পীরা সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে কারিগরদের পারিশ্রমিক বাড়লেও সেই অনুপাতে প্রতিমা তৈরির মূল্য পাচ্ছেন না তাঁরা। ফলে আগের তুলনায় তাঁদের লাভের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। অথচ প্রায় এক মাস ধরে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিমা তৈরি করতে হচ্ছে তাঁদের।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুমার সাহা বলেন, চলতি বছর পৌরসভাসহ শাহজাদপুর উপজেলার ৯২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। অতীতের মতো এবারও উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ৫৮০ জন আনসার সদস্য ৯২টি পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরুর পর থেকেই উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পূজা চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। তিথি অনুযায়ী, চলতি বছর সপ্তমী পূজা হবে দুই দিন। আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটবে।
এ বছর শাস্ত্রীয় মতে, দেবী দুর্গা ঘটকে আগমন করবেন এবং নৌকায় গমন করবেন।
এসএ




Comments