দেবিদ্বারে শিশু ধর্ষণচেষ্টা: জুতাপেটা ও জরিমানায় ধামাচাপার চেষ্টা, থানায় মামলা
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পাঁচ বছরের এক এতিম শিশুকে চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে মাজহারুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশ ডেকে অভিযুক্তকে ১০টি জুতাপেটা ও মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কুরুইন বেপারি বাড়ির একটি নির্জন ঘরে এ পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মাজহারুল ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র ও নিরীহ হওয়ায় ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে চেপে যাওয়ার জন্য চাপ দেয় গ্রামের একটি প্রভাবশালী চক্র। একপর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে গত ৭ অক্টোবর শিশুটির পরিবারকে জোরপূর্বক সালিশ বৈঠকে বসতে বাধ্য করা হয়। সালিশে গ্রাম্য মাতব্বররা অভিযুক্ত যুবককে ১০টি জুতাপেটা ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে রেহাই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শিশুটির স্বজনরা এমন লোকদেখানো বিচার মেনে না নিলে সালিশ বৈঠকেই দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও মারামারির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সালিশের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির চাচী জানান, ২০২৪ সালে শিশুটির বাবা এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এবং তাঁর লাশ গুম করা হয়। তখন শিশুটির বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। পিতৃহীন হওয়ার পর থেকে তিনিই শিশুটিকে লালন-পালন করে আসছেন। গত ৫ অক্টোবর (সোমবার) বিকেলে চকলেট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ফুসলিয়ে নির্জন ঘরে নিয়ে বিবস্ত্র করে ধর্ষণচেষ্টা চালায় অভিযুক্ত মাজহারুল। এ সময় শিশুটির ফুফু বিষয়টি টের পেয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিচারে সঠিক ফায়সালার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নেয় এবং থানা-পুলিশ না করতে পরিবারটিকে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি ঘটনাটিকে 'মিথ্যা ও সাজানো' প্রমাণের জন্য গত ৯ অক্টোবর গ্রাম্য মাতব্বররা অর্থকড়ির বিনিময়ে একটি প্রহসনের মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে।
এদিকে রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির একটি ভিডিও বক্তব্য ভাইরাল হলে বিষয়টি সর্বত্র জানাজানি হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির চাচী বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "ভুক্তভোগী শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতে ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবারটিকে প্রথমে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক গ্রাম্য সালিশে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে সুবিচার না পেয়ে শিশুটির চাচী থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মাজহারুল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।"
ডিআর




Comments