হাওরের বেকার যুবক-যুব মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে
খালিয়াজুরীতে পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ শুরু
নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২১ দিনব্যাপী ‘মৌলিক পোশাক তৈরি’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে হাওরাঞ্চলের বেকার তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী করে তোলার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ অলিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নূর আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ অলিদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মমুখী শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি প্রশিক্ষণের প্রতিটি সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য যুবক ও যুব মহিলাদের প্রতি আহ্বান জানান।
হাওরবেষ্টিত খালিয়াজুরী উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকাংশেই প্রকৃতি ও মৌসুমি যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের সীমিত সুযোগের কারণে এ অঞ্চলের অনেক বেকার যুবক ও যুব মহিলাকে জীবিকা নির্বাহে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে মৌলিক পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেলাই ও পোশাক তৈরির দক্ষতা অর্জন করে তাঁরা নিজেরাই আয়ের পথ তৈরি করতে পারবেন। কেউ বাড়িতে বসে পোশাক তৈরির কাজ করে উপার্জন করতে পারবেন, আবার কেউ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে সেলাইয়ের দোকান প্রতিষ্ঠা কিংবা পোশাক তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এতে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের বেকার যুবসমাজের জন্য শুধু সরকারি বা বেসরকারি চাকরির অপেক্ষায় না থেকে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, কারিগরি পরামর্শ এবং উৎপাদিত পোশাক বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা হলে এ উদ্যোগের সুফল আরও ব্যাপকভাবে পাওয়া সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, হাওরাঞ্চলের ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে খালিয়াজুরী উপজেলার যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থান, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
এসএ




Comments