স্বামীর মৃত্যুর ৩০ বছর পার, সরকারি সহায়তা পেতে আজও প্রহর গুণছেন পন্ডিত বিবি
স্বামীর মৃত্যুর দীর্ঘ ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও কপালে জোটেনি সরকারি একটি বিধবা ভাতার কার্ড। বয়সের ভারে নুব্জ শরীর ও নানা রোগের সঙ্গে লড়াই করে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক মিয়ার স্ত্রী পন্ডিত বিবি (৬০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পন্ডিত বিবির সংসারে একটি সন্তান থাকলেও তিনি মায়ের কোনো খোঁজখবর নেন না। মাথা গোঁজার মতো নিজস্ব কোনো জমি বা ভিটেমাটি না থাকায় বাধ্য হয়ে ছেলের ঘরের এক কোণে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এই বৃদ্ধা। একসময় গবাদিপশু চড়িয়ে কিছু উপার্জন করলেও বর্তমানে শারীরিক নানা অসুস্থতার কারণে আগের মতো কাজ করতে পারছেন না। ফলে ওষুধপত্র কেনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।
দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে পন্ডিত বিবি বলেন, "স্বামী মারা যাওয়ার ৩০ বছর পার হলো, আজ পর্যন্ত আমার ভাগ্যে একটা বিধবা ভাতার কার্ড মিলেনি। কার্ড দেওয়ার কথা বলে এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বেশ কয়েকবার আমার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ছবি নিয়ে গেছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমি অসুস্থ মানুষ, আগের মতো কাজ করতে পারি না। সরকারি এই ভাতাটুকু পেলে অন্তত ওষুধ কিনে খেতে পারতাম।"
এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ভুক্তভোগী পন্ডিত বিবিকে তাঁর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি) নিয়ে সরাসরি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ডিআর




Comments