Image description

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ও জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বরিশালের বানারীপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসনিক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৫৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করায় মা ইলিশ রক্ষার নিয়মিত অভিযানে পর্যাপ্ত পুলিশি সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) থেকে অতিরিক্ত সদস্য এনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় এবার মোট ৫৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এসব মণ্ডপে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বানারীপাড়া থানা পুলিশের সদস্যদের মণ্ডপভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ কারণে এ সময়ে মা ইলিশ রক্ষার নিয়মিত অভিযানে পুলিশ সদস্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, পুলিশের পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় সন্ধ্যা নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুলিশের অনুপস্থিতির সুযোগে একশ্রেণির জেলে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযান পরিচালনার সময় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জেলে ও তাঁদের সহযোগীদের আগ্রাসী হামলার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে মৎস্যসম্পদ রক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন রজনী এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “জীবন ঝুঁকিতে রেখে রাতে একা অভিযান পরিচালনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এমনকি দিনেও পুলিশ ছাড়া অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখাও জরুরি। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ করা না গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ সংকট মোকাবিলায় বানারীপাড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি প্রয়োজনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তাঁদের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানও আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যাবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এসএ