Image description

গাজীপুরের পূবাইলে প্রেমের পর অভিভাবকদের অমতে বিয়ে করা আরিফা আক্তার (২০) নামের এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিয়ের মাত্র ১৪ দিনের মাথায় মায়ের বকাঝকা ও মনস্তাত্ত্বিক কষ্টের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পূবাইল থানাধীন বশুগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিফা আক্তার ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার তালমা এলাকার রাশেদের মেয়ে। তিনি পূবাইলের বশুগাঁও এলাকার একটি ট্রাউজার কারখানায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্বামী নাবিল (২৩) গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার বানারহাওলা এলাকার মৃত হারুন অর রশীদের ছেলে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ধরে দুই পরিবারের অমতেই গত ৪ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আরিফা ও নাবিল। বিয়ের পর থেকে তাঁরা পূবাইলের বশুগাঁও এলাকায় বাদশা মিয়ার বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।

ঘটনার দিন রোববার সকালে আরিফার মা মুঠোফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং অমতে বিয়ে করার কারণে তাঁকে প্রচণ্ড বকাঝকা করেন। মায়ের বকা খেয়ে মারাত্মক মনঃকষ্টে ভোগেন আরিফা।

পরবর্তীতে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে স্বামী নাবিল দোকানে গেলে আরিফা নিজের ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

দোকান থেকে ফিরে স্ত্রীকে জানালার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিত্কার করেন নাবিল। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ওড়না কেটে আরিফাকে দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূবাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এহতেশাম তালুকদার মানবকণ্ঠকে বলেন, এ মুহূর্তে মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ডিআর