Image description

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ১৫ টন চিনিসহ কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি মফিজ বাজার এলাকা থেকে ১৪৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পটিয়া থানা পুলিশ ও আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব চিনি উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনাঘাটের মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের জন্য ২৮ টন চিনি নিয়ে যশোর-ট-১১-৪৬৫৭ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরের নাসিরাবাদ এলাকার একটি কারখানায় ১৩ টন চিনি খালাস করা হয়। এরপর অবশিষ্ট ১৫ টন চিনি পটিয়ার ফুলকলি কারখানায় সরবরাহের জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

তবে ২১ অক্টোবর ভোররাতে পটিয়ার মনসা বাদামতল এলাকায় কাভার্ডভ্যানটির চালক আলমগীরকে (৪৫) অচেতন ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন অন্য চালকেরা। পরে তাঁকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চালকের দাবি, তাঁকে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে অচেতন করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ১৫ টন চিনিসহ কাভার্ডভ্যানটি ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। ছিনতাই হওয়া চিনির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে কাভার্ডভ্যানটির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ছিনতাই হওয়া চিনি ও কাভার্ডভ্যান উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি মফিজ বাজার এলাকার কয়েকটি দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১৪৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়।

আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম জানান, আজিজনগর বাজারের কয়েকটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া ১৪৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। আপাতত বান্দরবান থেকে কিছু চিনি উদ্ধার করা গেছে। বাকি চিনিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ছিনতাই ও চোরাই মালামালের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এসএ