সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী নিধন থামছেই না। কয়রার গোলখালীতে ফের হরিণ শিকারের আলামত জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার সকালে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রা থানার গোলখালী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩.৭ কেজি হরিণের মাংস, একটি মাথা, চারটি পা ও একটি আস্ত চামড়া উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোলখালীর সিংয়ের বাঁধ সংলগ্ন গহীন এলাকায় একটি চক্র হরিণ শিকার করে মাংস পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ২২ অক্টোবর বুধবার সকাল ৮টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রার একটি চৌকস দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা বনের ভেতর পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বস্তা থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১৩.৭ কেজি হরিণের মাংস, ৪টি পা, ১টি মাথা এবং ১টি হরিণের চামড়া জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের কোবাদক ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে বন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, "সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। হরিণ শিকার, বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও বনদস্যুতা রোধে আমাদের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
উল্লেখ্য, সুন্দরবনে হরিণ শিকার বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। একটি হরিণ হত্যার জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এসএ




Comments