Image description

মা ইলিশ রক্ষায় নদী ও সাগরে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে অসাধু জেলেদের মাছ শিকার থেমে নেই। গত ১৮ দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনায় ইলিশ শিকার করার অভিযোগে ১৩৮ জন জেলেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগ।

আটককৃতদের মধ্যে দায়ের করা ৯৪টি মামলায় ৭৩ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৬৫ জনকে সর্বমোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অভিযানের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে এ পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ২০৮টি ছোট-বড় অভিযান এবং একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানকালে উদ্ধার ও জব্দকৃত সরঞ্জামের বিবরণ

জব্দকৃত ইলিশ: ৩.৯৫ মেট্রিক টন (যা স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে)।
অবৈধ জাল: প্রায় ৩৫ লাখ ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল (যা আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়)।
যানবাহন: ১৮টি মাছ ধরার নৌকা এবং ১টি স্পিডবোট।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সুরক্ষায় লক্ষ্মীপুরসহ দেশের উপকূলীয় ২০টি জেলার নদ-নদী ও সাগরে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য সব ধরনের মৎস্য আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নদীতে মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রি ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা, ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার স্পষ্ট আইনি বিধান রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় নদীপথে মৎস্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এ কঠোর অভিযান ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

ডিআর