Image description

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দরে পরিবারসহ ঘোর বর্ণবৈষম্যমূলক ও হুমকিমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ‘রায়ানএয়ার’ (Ryanair)-এর গেট কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এই বাজে আচরণের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সাঙ্গাকারা বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। খবর এনডিটিভি।

এক্সের পোস্টে সাঙ্গাকারা জানান, পরিবার নিয়ে ভ্রমণের সময় ডাবলিন বিমানবন্দরে আয়ারল্যান্ডভিত্তিক স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা রায়ানএয়ারের কর্মীদের কথাবার্তার ধরণ, নিয়ম অনুসরণে চরম অসঙ্গতি এবং অহেতুক হুমকিমূলক আচরণে তিনি ও তাঁর পরিবার স্তম্ভিত ও গভীরভাবে হতাশ হয়েছেন। ডাবলিনে ভ্রমণকালে এটিই তাঁর জীবনের প্রথম এমন তিক্ত ও বাজে অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো সাধারণ যাত্রীর সঙ্গেই এমন অমানবিক আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

সাঙ্গাকারার অভিযোগের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সাঙ্গাকারার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এক ব্যবহারকারী তাঁকে কটাক্ষ করে লেখেন যে, সাবেক তারকা ক্রিকেটার হিসেবে হয়তো সাঙ্গাকারা ভিআইপি বা বিশেষ কোনো সুবিধা প্রত্যাশা করেছিলেন। সবাইকে সমান চোখে দেখাকে বর্ণবাদ বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন ওই ট্রোলার।

তবে ওই সমালোচনার জবাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাঙ্গাকারা। মূল ঘটনা তুলে ধরে শ্রীলঙ্কার এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, ডাবলিন বিমানবন্দরে রায়ানএয়ারের কর্মীরা তাঁদের মুখের ওপর সরাসরি বলেছিলেন—‘আপনাদের মতো পাসপোর্টধারী মানুষদের কাছ থেকে এমন আচরণই প্রত্যাশা করা উচিত।’

সাঙ্গাকারা আরও জানান, তাদের এই বর্ণবাদী মন্তব্যের প্রতিবাদ জানালে উড্ডয়ন গেটের কর্মীরা উল্টো তাঁদের অন্যান্য যাত্রীদের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং ফ্লাইটে উঠতে না দেওয়ার সরাসরি হুমকি প্রদান করেন। এ প্রসঙ্গে সাঙ্গাকারা স্পষ্ট জবাব দিয়ে লেখেন, “এটি সবাইকে সমানভাবে বিবেচনা করা বা নিরপেক্ষতা নয়, এটি সুস্পষ্ট বর্ণবাদ।”

উল্লেখ্য, আয়ারল্যান্ডভিত্তিক রায়ানএয়ার একটি ইউরোপীয় স্বল্পমূল্যের জনপ্রিয় বিমান সংস্থা। ঘটনার বিষয়ে ক্রিকেট ভক্ত ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ডিআর