রাজবাড়ীতে মা ইলিশ রক্ষায় ৯৭ অভিযান, ১৬ লাখ ৫৫ হাজার মিটার জাল জব্দ
কারাদণ্ড ৪৬ জনের
রাজবাড়ীতে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মৎস্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৯৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৭৮টি মামলা, ১৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শেষ হয়েছে সরকারের নির্ধারিত ২২ দিনের ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা।
জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্যমতে, অভিযান চলাকালে মোট ২৭৮ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা অবৈধ জাল নিলামে বিক্রি করে ১ লাখ ১০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। নিয়মিত মামলায় ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে এসব অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। আইন অমান্য করে ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভিন বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। ইলিশ শিকার নিয়ন্ত্রণে নদ-নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে সরকারি চাল বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একদিকে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ অভিযান পরিচালনা করেছে, অন্যদিকে কিছু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারে নেমেছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেই হবে না; নদ-নদীতে নিয়মিত নজরদারি, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প কর্মসংস্থান ও পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
এসএ




Comments