দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন নতুন ক্রীড়া প্রতিভাবান খুঁজে বের করতে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সারা দেশের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাজ করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা স্টেডিয়ামগুলোকে আধুনিকায়ন করে তরুণদের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর হাজীপাড়া এলাকায় পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তৃণমূলের ক্রীড়া সচ্ছলতা ফেরানোর তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, “বর্তমান বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দেশীয় খেলাধুলাকে পূর্ণাঙ্গ পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করা। তৃণমূল থেকে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করতে আমাদের মূল কাজ শুরু হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনায় দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার রূপরেখা বাস্তবায়িত হচ্ছে। একই সাথে জেলা স্টেডিয়ামগুলোর দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতা দূর করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।”
যুব সমাজের আত্মকর্মসংস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের প্রশিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি উল্লেখ করেন, “যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে নানা উদ্ভাবনী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হবে। এতে তারা দেশে ও বিদেশে ঘরে বসেই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ পাবে।”
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিমন্ত্রী গরু বা গবাদিপশুর খামার রয়েছে—এমন এলাকাগুলোতে বাড়ি ভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ জ্বালানি চাহিদা মিটবে, অন্যদিকে আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা বাণিজ্যিকভাবে বায়োগ্যাস সংযোগ বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।”
প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচজন তরুণ উদ্যোক্তার হাতে ঋণ সহায়তার চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা সহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিআর




Comments