কুমারখালীর বিল বরইচারায় রণাঙ্গন দিবস পালিত, শহীদদের বীরত্ব স্মরণের আহ্বান
মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা ইতিহাসের সাক্ষী কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বিল বরইচারা। ১৯৭১ সালের ৩১ অক্টোবর এ গ্রামের মাটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণে কুমারখালীর বিল বরইচারা রণাঙ্গন দিবস পালন করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বিল বরইচারা স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে কুমারখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অতিথিরা। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর মজনু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকমাল হোসেন, আব্দুর রফিক, মুস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল কাদের ও সমসের আলী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সচিব জাফর ইকবাল মুক্তার, সদস্য আলাউদ্দীন আহমেদ, আরজুসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি রণাঙ্গনের ইতিহাস জাতির অমূল্য সম্পদ। ১৯৭১ সালের ৩১ অক্টোবর বিল বরইচারা গ্রামে সংঘটিত যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সাহসিকতা ও বীরত্বের এক স্মরণীয় অধ্যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও বীরত্বের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
কুমারখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান জোয়ার্দার।
ডিআর




Comments