Image description

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় উৎপাদন, পারিবারিক আয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এই সুবিধা ধীরে ধীরে কমে আসছে। জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের অনুপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর তুলনায় কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত  কমছে। এ প্রেক্ষিতে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিই ভবিষ্যতে বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন Demographic Change in South Asia: From Tailwinds to Headwinds for Development এ বিষয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে প্রতিবছর গড়ে ০.৪ শতাংশীয় পয়েন্ট অবদান যুক্ত হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৪৪ সালের মধ্যে এই অবদান কমে ০.২ শতাংশীয় পয়েন্টে দাঁড়াবে। ২০৪৫ সাল থেকে তা নেতিবাচক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ, জনসংখ্যার বর্তমান কাঠামো থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের হাতে সময় আছে বড়জোর দুই দশক। তবে শুধু কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি থাকলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। তাদের দক্ষ, সুস্থ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বাংলাদেশ বার্ধক্যজনিত জনমিতিক পরিবর্তনের প্রথম পর্যায়ে প্রবেশ করবে। তখন দেশের মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৫১ সালে এই হার বেড়ে ১৪ শতাংশে পৌঁছাবে। তখন বাংলাদেশ একটি বয়স্ক জনসংখ্যার দেশে পরিণত হবে। এই পরিবর্তন সম্পন্ন হতে সময় লাগবে মাত্র ২৪ বছর। অন্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে একই পরিবর্তনে গড়ে ৩২ বছর এবং উন্নত অর্থনীতিতে ৪৬ বছর সময় লেগেছে।

উদ্বেগের বিষয় শুধু মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়া নয়; বরং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটানোর মতো অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশের হাতে সময় খুবই কম। উন্নত দেশগুলো তুলনামূলক বেশি আয় ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর বার্ধক্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। বাংলাদেশকে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ও সীমিত সামাজিক সুরক্ষার মতো সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি এই নতুন বাস্তবতার জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে।
কর্মসংস্থান ও দক্ষতা: জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল ও নিরাপদ কর্মসংস্থান তৈরি করতে না পারা। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ব্যক্তি, অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। তাঁদের বড় অংশের চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত আয়, অবসরকালীন সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা নেই। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেও অনেকে মানসম্মত চাকরি পাচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক স্নাতকও অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। এর অন্যতম কারণ হলো শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য।

তাই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, কাজের মান ও উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে। শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংযোগও জরুরি।

এ ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। শিশুযত্নের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব এবং সুযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক নারী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রয়েছেন। সাশ্রয়ী শিশুযত্নকেন্দ্র, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নমনীয় কর্মঘণ্টা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই বিপুল জনশক্তিকে অর্থনীতিতে যুক্ত করা সম্ভব।

স্বাস্থ্যসেবা ও বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা
মানুষের আয়ু বাড়লেই যে সুস্থ জীবন বাড়বে, তা নয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্মের সময় প্রত্যাশিত গড় আয়ু এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ বছরের ব্যবধান রয়েছে। অর্থাৎ, জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি সময় অনেক মানুষ অসুস্থতা নিয়ে কাটান।

স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যও প্রকট। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ হলেও শহরাঞ্চলে চিকিৎসকের ঘনত্ব গ্রামের তুলনায় প্রায় ১৮ গুণ বেশি। অন্যদিকে, দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। এতে অসুস্থতার কারণে অনেক পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে সবার জন্য সাশ্রয়ী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ওষুধের সহজলভ্যতা এবং স্বাস্থ্যবিমার পরিধি বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও বয়স্কদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দিতে হবে।

বয়স্ক মানুষের আর্থিক নিরাপত্তাও বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১ শতাংশের মতো মানুষ আনুষ্ঠানিক পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখেন। ফলে অবসরের পর অধিকাংশ মানুষকে পরিবারের সহায়তা অথবা সীমিত সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করতে হয়।

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি এ ক্ষেত্রে একটি প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে এর আওতা বাড়াতে জনসচেতনতা, চাঁদা প্রদানের নমনীয়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা বাড়ানো প্রয়োজন। অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মী, স্বনিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রবাসী কর্মীদেরও অবসরকালীন সঞ্চয়ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

বার্ধক্য মোকাবিলায় অর্থায়নের নতুন সুযোগ
বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বাড়তি চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের সীমিত কর রাজস্ব স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই করের আওতা বাড়ানো, কর আদায়ব্যবস্থা আধুনিক করা এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় উৎসাহিত করা এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে। আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ কমানো এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইসলামী অর্থায়নও এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। মুদারাবাভিত্তিক সঞ্চয়পণ্য, সুকুক এবং জাকাত ও ওয়াক্‌ফের মতো সামাজিক অর্থায়নব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় অর্থায়ন করা সম্ভব। পেশাদার ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়াক্‌ফ তহবিল এবং স্বচ্ছ জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে অসহায় প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখা যেতে পারে।

তবে এসব উদ্যোগ সরকারের দায়িত্বের বিকল্প নয়; বরং একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

সতর্কবার্তাকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে
জনমিতিক পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণ করতে হবে, যেখানে অগ্রাধিকার পাবে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং আনুষ্ঠানিক খাতে চাকরির সুযোগ সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণব্যবস্থা আধুনিকায়ন, শিশুযত্নের সুযোগ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সমান কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা, রোগ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা এবং চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মী, স্বনিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করে পেনশন ও অবসরকালীন সঞ্চয়ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে হবে। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সঞ্চয়, বিমা, পেনশন তহবিল এবং শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থের দক্ষ ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, জনমিতিক পরিবর্তনের সতর্কবার্তাকে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপে রূপ দিতে হলে কর্মসংস্থান, দক্ষতা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, অর্থায়ন ও সুশাসন—সব ক্ষেত্রেই এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

এখনই জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন
জনমিতিক পরিবর্তনকে বাংলাদেশের জন্য দূর ভবিষ্যতের কোনো সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকারকে এখনই জাতীয় জনমিতিক রূপান্তর কর্মপরিকল্পনা (২০২৭–২০৪৫) প্রণয়ন করতে হবে। অর্থ, পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা থাকতে হবে।

এসব অগ্রাধিকার জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ উদ্যোগে বেসরকারি খাত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদেরও যুক্ত করতে হবে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, জনসংখ্যার অনুকূল বয়সকাঠামো নিজে থেকেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে না। সঠিক নীতি, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমেই এই সম্ভাবনাকে বাস্তব সম্পদে রূপান্তর করতে হয়।
আগামী দুই দশকই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ তার জনমিতিক সুবিধাকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে পারবে, না কি সময়মতো প্রস্তুতি না নেওয়ার অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। সুযোগ এখনো আছে, কিন্তু পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।
মোঃ খায়রুল হাসান একজন ব্যাংকার, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও আর্থিকখাত বিশ্লেষক।

ডিআর