যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ, কঠিন পরীক্ষার মুখে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ দুটিরই নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে ডেমোক্র্যাট দল। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের শাসনকাজ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ বেশ কণ্টকাকীর্ণ হয়ে উঠেছে। আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ—প্রতিটি পদক্ষেপেই এখন বিরোধী দলের সঙ্গে কড়া সমঝোতা কিংবা বাধার মুখে পড়তে হবে ট্রাম্পকে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
কংগ্রেসে দুই কক্ষের হিসাবনিকাশ
মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ৫১টি আসনের প্রয়োজন হয়। সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ৫৪টি আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে রিপাবলিকানদের ঝুলিতে রয়েছে ৪৪টি আসন। এ বছর ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখনও কয়েকটি আসনের চূড়ান্ত ফল গণনা বাকি রয়েছে।
অন্যদিকে, নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে ২২৫টিতে, আর রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১৩৮টি আসন (মোট ৩৫৭টি আসনের গণনা শেষে)। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যা ২১৮টি হওয়ায় এই কক্ষেও নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছে ডেমোক্র্যাটরা।
আইন প্রণয়ন ও নিয়োগে যত বাধা
কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা বিজয়ী হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বড় ধরনের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে:
নতুন আইন প্রণয়ন: যেকোনো বিল আইনে পরিণত করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই পাস হতে হয়। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই দুই কক্ষে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আইন পাস করা বা নতুন আইন তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন হবে। যদিও ট্রাম্প বিলে ভেটো দিতে পারবেন, তবে কংগ্রেস চাইলে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে সেই ভেটো অগ্রাহ্য করতে পারে।
নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে যাওয়ার শঙ্কা: মন্ত্রিসভার সদস্য, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রদূত এবং ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থীদের মনোনয়ন আটকে দেওয়া বা তাতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।
তদন্ত ও নজরদারি: প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে কড়া তদন্ত, শুনানি এবং সরকারি নথিপত্র ও সাক্ষ্য তলব করার একচ্ছত্র ক্ষমতা পাবে। ফলে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নামে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে কোণঠাসা করে রাখতে পারেন।
অভিশংসনের খড়্গ: প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার পথও উন্মুক্ত হয়েছে। যদিও চূড়ান্তভাবে পদচ্যুত করতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা ও প্রতিক্রিয়া
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা পুরোপুরি সীমিত হয়ে যায়নি। তিনি প্রশাসনিক দপ্তরগুলোকে সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া এবং সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থেকে নির্বাহী আদেশ জারি করতে পারবেন। তবে নির্বাহী আদেশ দিয়ে কংগ্রেসের পাস করা কোনো আইন বাতিল করা সম্ভব নয়।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের এই ফলাফলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে ভোটারদের অসন্তুষ্টির বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে মিলে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে বাজেট পাস থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের তীব্র মতবিরোধের কারণে মার্কিন সরকারের কার্যক্রম আংশিক বন্ধ বা ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউন’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ডিআর




Comments