বিশ্বের ১৯টি দেশে বসবাসরত প্রায় ৬০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের হাতে পৌঁছেছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৩০ হাজারের বেশি প্রবাসী ইতিমধ্যে তাঁদের বহুল কাঙ্ক্ষিত স্মার্ট এনআইডি কার্ড হাতে পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি অনুবিভাগের তৈরি করা এক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ১৯টি দেশ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে এ পর্যন্ত প্রবাসীদের মোট আবেদন জমা পড়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ২০৬টি। এসব আবেদন সশরীরে ও অনলাইনে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই শেষে ৫৯ হাজার ৩১৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশির এনআইডি অনুমোদন ও প্রস্তুত করা হয়েছে।
অনুমোদিত এনআইডির মধ্যে ৩০ হাজার ১৮৩ জন প্রবাসী সরাসরি স্মার্ট এনআইডি কার্ড পেয়েছেন। বাকি নাগরিকেরা আপাতত নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টাল থেকে এনআইডির পিডিএফ (PDF) কপি ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করছেন। তাঁদের জন্য মুদ্রিত স্মার্টকার্ডগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশন বা এনআইডি সেবা স্টেশনের মাধ্যমে বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক না থাকায় ৩৭ হাজার ৬৯২টি আবেদন ইতোমধ্যে বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য আরও ২ হাজার ১৩২ জন প্রবাসীর আবেদন তদন্তাধীন বা অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে।
গত ২ নভেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে। যে সব দেশ থেকে প্রবাসীদের আবেদন বিবেচনা করা হয়েছে তা হলো— সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন (যা নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে), সিঙ্গাপুর এবং বাহরাইন।
এ ছাড়া প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে অতি সম্প্রতি স্পেন, জার্মানি ও হংকংয়েও এনআইডি নিবন্ধনের নতুন স্টেশন ও সেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসীদের এনআইডি সেবার মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত ও বড় স্টেশন হিসেবে কাজ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস কেন্দ্রসমূহ। মোট জমা পড়া আবেদনের সিংহভাগই এসেছে এসব মেগাসিটির প্রবাসী সেবা কেন্দ্রগুলো থেকে।
ডিআর




Comments