Image description

উপকূলীয় ছোট্ট শহর মোংলার চিলার এক সাধারণ প্রান্ত থেকে উঠে এসে পুরো দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন লিকা পোদ্দার। জাতীয় ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক অর্জনে শুধু মোংলা নয়, আনন্দের জোয়ারে ভাসছে পুরো বাগেরহাট জেলা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই ব্যাডমিন্টন ছিল লিকার প্রধান ধ্যান-জ্ঞান। মোংলার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নত প্রশিক্ষণ কোর্ট বা নিয়মিত কোচের সুযোগ না থাকলেও ভাঙা র‍্যাকেট ও সীমিত সম্পদের মাঝে দিনের পর দিন কঠোর সাধনা চালিয়ে গেছেন তিনি। বাবা-মায়ের অক্লান্ত সমর্থন আর নিজের জেদের জোরেই আজ তিনি ঢাকার বড় বড় ক্লাবের তারকা খেলোয়াড়দের পেছনে ফেলে ছিনিয়ে এনেছেন দেশ সেরার মুকুট।

লিকার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর বাসভবন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে বাড়িতে ছুটে যান মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) অর্থিতা হাওলাদার।

এ সময় লিকাকে অভিনন্দন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “লিকা প্রমাণ করেছে যে ইচ্ছাশক্তি থাকলে উপকূলীয় প্রান্তিক এলাকা থেকেও জাতীয় পর্যায়ে সেরা হওয়া সম্ভব। সে আমাদের মোংলা ও বাগেরহাটের অহংকার। উপজেলা প্রশাসন সবসময় তাঁর পাশে থাকবে।”

প্রশাসনের পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, ক্রীড়া সংগঠক ও সুধীজনরা লিকার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলীও লিকাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

লিকার এই দুর্দান্ত সাফল্য আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে মোংলায় ক্রীড়া অবকাঠামোর করুণ দশা। স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের দীর্ঘদিনের দাবি, লিকার মতো হাজারো তরুণ প্রতিভা এই অঞ্চলে লুকিয়ে রয়েছে। তাদের উপযুক্ত বিকাশের জন্য মোংলায় একটি আধুনিক ইনডোর ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এখন সময়ের দাবি। উপকূলের এই মেয়ের সোনালী জয় আগামী প্রজন্মকে নতুন স্বপ্ন দেখাবে—এই আশাবাদই সবার।

ডিআর