বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল (৩৮) নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা আজ বুধবার বারুইপাড়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফকিরহাট উপজেলার নিয়তির মোড় (নিয়তির মাঠ) এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় একদল হেলমেটধারী দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। তারা বাদল মোড়ল ও ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আবদুল্লাহ মোড়লকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ঘটনাস্থলেই মারা যান বাদল মোড়ল। গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুল্লাহ মোড়ল বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে বারুইপাড়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নিহতের সমর্থক ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলের একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা স্থানীয় জামায়াত অফিসের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে। তবে হামলার সময় ওই কার্যালয়ে কোনো নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয় জামায়াত নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তাদের দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, এই ঘটনার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে তাদের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, "কৃষক দল নেতা হত্যার ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অফিস ভাঙচুরের অভিযোগটিও পুলিশ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments