Image description

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. শফিউল আলমের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (আনোয়ার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিকারপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলামকে ওই মাদরাসায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে তিন কিস্তিতে মোট ১২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন সুপারিন্টেন্ডেন্ট শফিউল আলম। টাকা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ১০০ টাকা মূল্যমানের ৩টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামাও সম্পাদন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি।

ভুক্তভোগী আনোয়ারুল ইসলামের দাবি, টাকা ফেরত চাইলে সুপারিন্টেন্ডেন্ট টালবাহানা শুরু করেন এবং তার স্ত্রী রায়হানা খাতুনকে (যিনি ওই মাদরাসায় কর্মরত) চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেন।

একই সঙ্গে রায়হানা খাতুনের পেশাগত অধিকার খর্ব করারও অভিযোগ উঠেছে। রায়হানা খাতুন ২০১৪ সাল থেকে ওই মাদরাসায় সহকারী মৌলভী পদে কর্মরত। বিধি অনুযায়ী তাঁর ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও সুপারিন্টেন্ডেন্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষা অধিদপ্তরে না পাঠিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি করছেন। এ বিষয়ে রায়হানা খাতুনও গত ১০ এপ্রিল পৃথক অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, "আমি আমার জমানো টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছি। এখন টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আমি প্রশাসনের কাছে আমার অর্থ ফেরত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসা সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. শফিউল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর