Image description

চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় জুলাই মাসের মাত্র ২৩ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ উপসর্গের পাশাপাশি এবার অনেক রোগী 'শক সিন্ড্রোম' নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। টানা বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার দ্রুত বংশবিস্তারকেই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬৫৪ জন। এর মধ্যে বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৯৮ জন। অথচ জুলাই মাসের প্রথম ২৩ দিনেই সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ জনে। অর্থাৎ বছরের প্রথম ছয় মাসের মোট আক্রান্তের চেয়েও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন চলতি মাসের মাত্র তিন সপ্তাহে। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৭৬ জন পুরুষ, ১৬৫ জন নারী এবং ১১৩ জন শিশু। ভৌগোলিক হিসেবে নগরীর ২৬০ জন এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলার বাসিন্দা রয়েছেন ১৩২ জন। উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সীতাকুণ্ডের, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪ জন।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের এক জরিপে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সবকটিতেই এডিস মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ বা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওয়ার্ডগুলো হলো— উত্তর কাট্টলী (১০), পাহাড়তলী (৩), আলকরণ (২), পশ্চিম বাকলিয়া (১৭), দক্ষিণ বাকলিয়া (১৯), দক্ষিণ বালুচরা (৩৯), পাথরঘাটা (৩৪) এবং আন্দরকিল্লা (৩২)। জরিপ মতে, শনাক্ত হওয়া মশার ৭০-৮০ শতাংশই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক ‘এডিস ইজিপটাই’।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, "ডেঙ্গু ও মিজেলস—উভয়ই ভাইরাসজনিত হওয়ায় শুরুতে অনেক সময় পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়। তবে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে এবার রক্তক্ষরণ, লো প্রেশার ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে।"

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, "নগরীতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও আমরা অত্যন্ত সতর্ক রয়েছি। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।"

চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি জানান, মশা নিধনে ৪১টি ওয়ার্ডে ২০৫ জন স্প্রে-ম্যান কাজ করছেন। বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য ৬০ জনের একটি দক্ষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ৬ মাসের ওষুধের মজুত রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বী নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু কিটস ও আইভি ফ্লুইড মজুত রাখা হয়েছে এবং বিশেষ ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর