সাড়ে ৪ হাজার কর্মী চাকরিচ্যুত
চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারালেন সাড়ে ৪ হাজার কর্মী
ব্যাংক হিসাব জব্দ ও এলসি সঙ্কটে চট্টগ্রামে এস আলমের ১১ শিল্পকারখানায় তালা
ব্যাংক হিসাব জব্দ ও নতুন করে এলসি খুলতে না পেরে কাঁচামাল সংকটের কারণে চট্টগ্রামে শিল্প গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ১১টি শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কারখানাগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়, যা শনিবার (১ আগস্ট) থেকে কার্যকর হয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত এসব শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একযোগে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। তবে কারখানাগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু কর্মী এখনও বহাল রয়েছেন।
বন্ধ ঘোষিত ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম স্টিল, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড এবং একটি পশু খাদ্যের কারখানা। তবে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত এস আলমের মালিকানাধীন ‘এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট’ নামের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যথারীতি চালু থাকবে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকৌশলী হাসমত আলী কারখানা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার থেকে অব্যাহতির নোটিশ দেওয়া শুরু হয় এবং শনিবার থেকে তা কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, “দুই বছর আগে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮ হাজারের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ নোটিশ দেওয়া পর্যন্ত সাড়ে চার হাজারের মতো কর্মী বহাল ছিলেন। কারখানাগুলো দুই বছর ধরে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না থাকলেও মালিকপক্ষ নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করে আসছিল। ছাঁটাইকৃত সব কর্মীর বেতন ও অন্যান্য প্রাপ্যও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
প্রকৌশলী হাসমত আলী উল্লেখ করেন, গ্রুপের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকা এবং নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে না পারার কারণেই কারখানাগুলোর জন্য কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়েই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও জানান, মালিকপক্ষের বার্তা অনুযায়ী- ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং ব্যাংক সংক্রান্ত জটিলতা কেটে কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে, ছাঁটাই হওয়া এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে ফিরিয়ে আনা হবে। কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে সরকার যে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে, কারখানাগুলো সচল হলে তাতে আবার গতি ফিরবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।




Comments