ফেনী-পরশুরাম সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
কাজ বন্ধ করে দিল স্থানীয়রা
ফেনী-পরশুরাম-বিলোনিয়া স্থলবন্দর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ কাজে মানহীন সামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির অভাবের প্রতিবাদে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে পরশুরামের অংশে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। সোমবার দুপুরে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনগণ একজোট হয়ে পরশুরামের সলিয়া থেকে চিথলিয়া পর্যন্ত অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।
বিক্ষোভকালে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, "সড়ক নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের রড, সিমেন্ট এবং ঢালাইয়ের কাজে নিকৃষ্ট মানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে।" গাজী ইউসুফ বাপি নামে আরেক বাসিন্দা জানান, নকশা অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে গাইডওয়াল বা গার্ডওয়াল থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে তা ছাড়াই কাজ চালানো হচ্ছে। এভাবে কাজ হলে আগামী বর্ষা মৌসুমেই সড়কটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় করবে।
কাজের সঠিক তদারকি না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পেয়ার আহমেদ নামে এক বাসিন্দা বলেন, "সরকারি কোনো কর্মকর্তাকে তদারকির জন্য মাঠে দেখা যায় না। ঠিকাদার নিজের ইচ্ছেমতো মানহীন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।" এছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা অপসারণ না করেই অপরিকল্পিতভাবে কাজ চালানো এবং যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ির ফলে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
ফেনী সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদর থেকে ফুলগাজী হয়ে পরশুরাম-বিলোনিয়া স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ককে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে ১৮ ফুট চওড়া সড়কটিকে উভয় পাশে আরও ৪.৮০ মিটার করে বাড়িয়ে মোট ৩৪ ফুট চওড়া করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিলোনিয়া স্থলবন্দরে যাতায়াত এবং পুরো অঞ্চলের বাসিন্দাদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নিম্নমানের যে ইটগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো মূল কাজে নয়—বরং পানি কিউরিংয়ের কাজের জন্য সাময়িকভাবে আনা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, কাজের শিডিউল ও নকশা অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া জানান, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
ডিআর




Comments