Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসব বেদনা ও রক্তক্ষরণ নিয়ে ভর্তির পর ৩ ঘণ্টা চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তায় সিএনজিতে সন্তান প্রসবের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। দৈনিক মানবকণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনভর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন সিরাজগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তাসলিমা জান্নাত। রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএফএম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তদন্ত কার্যক্রম শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এর আগেই কর্তব্যে অবহেলার দায়ে দায়িত্ব পালনরত দুই মিডওয়াইফ নার্স রুমা মহন্ত ও শায়লা আনজুমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে প্রসব বেদনা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ে রঞ্জনা বেগমকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেন স্বজনেরা। পরে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর নেওয়ার পথে সিএনজিতেই সন্তান প্রসব করেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী রঞ্জনা বেগম বলেন, “আমি ও আমার সন্তান এখন সুস্থ আছি। তবে ওই দিন আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা যেন আর কোনো মায়ের সঙ্গে না ঘটে। আমরা এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে গাইনি চিকিৎসক নেই। ফলে মিডওয়াইফ ও নার্সদের ওপরই প্রসূতি সেবার পুরো দায়ভার বর্তায়। এছাড়া অপারেশন থিয়েটার ও সিজারিয়ান সুবিধা বন্ধ থাকায় জটিল রোগীদের বগুড়া বা সিরাজগঞ্জ সদরে পাঠানো হয়, যা জরুরি মুহূর্তে রোগীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, এই অমানবিক ঘটনা নিয়ে 'দৈনিক মানবকণ্ঠ'সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ডিআর