নেত্রকোনার খালিয়াজুরী হাওরাঞ্চলের মানুষের শঙ্কা আর নদীপথের হাজারো গল্প। পাহাড়ঘেরা সুনামগঞ্জ থেকে আশুগঞ্জ, ভৈরব, নারায়ণগঞ্জ কিংবা চাঁদপুর—দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন ছুটে চলে শত শত কার্গো, বাল্কহেড ও পণ্যবাহী নৌকা। অথচ এই সুবিশাল জলরাশি ও দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লেপসিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি নিজেই আজ অবহেলা ও নানা সংকটের করুণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের জন্য নেই নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা। একটি টিনের দুচালা ঘরেই কাটছে তাঁদের দিন-রাত। এমনকি ফাঁড়ির অস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে মারাত্মক নিরাপত্তাঝুঁকি।
সুবিশাল এই নদীপথে নিয়মিত টহল দেওয়ার মতো নেই কোনো দ্রুতগতির স্পিডবোট। চোরাকারবারিরা যখন ভারতীয় কাপড়, ওষুধ কিংবা মাদকদ্রব্য—যেমন গাঁজা ও ইয়াবা—নিয়ে নদীপথে সুকৌশলে পার হয়ে যায়, তখন সীমিত গতির নৌযান নিয়ে পুলিশ সদস্যদের অনেকটা অসহায় হয়ে পড়তে হয়।
বিশাল নৌপথের তুলনায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও নিতান্তই অপ্রতুল। লেপসিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবু জগৎজ্যোতি চৌধুরী জানান, সীমিত সক্ষমতা নিয়েও তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে দ্রুতগতির নৌযান ও পর্যাপ্ত লোকবল ছাড়া চোরাচালান সম্পূর্ণভাবে রোধ করা অত্যন্ত কঠিন।
নদীমাতৃক এই বাংলায় ধনু নদী কেবল একটি জলপথ নয়, এটি দেশের নৌবাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এই নদীপথকে অপরাধ ও চোরাচালানের কবল থেকে নিরাপদ রাখতে এখনই প্রয়োজন প্রশাসনিক নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ।
হাওরাঞ্চলের মানুষ চান না, কোনো অপরাধীচক্র নদীপথকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করুক। তাই দ্রুত লেপসিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, একটি আধুনিক স্পিডবোট এবং নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ফাঁড়িটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
এসএ




Comments