মিষ্টি না খেয়ে সহপাঠীর মায়ের পাশে শিক্ষার্থীরা, এবার দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি পাসের আনন্দের মিষ্টি না কিনে সেই টাকা দিয়ে সহপাঠীর ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার খরচ জুগিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল টাঙ্গাইলের সখীপুরের একদল কিশোর। শিক্ষার্থীদের এই হৃদয়স্পর্শী ও মানবিক উদ্যোগের খবর পৌঁছে গেছে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত। অসুস্থ সেই মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে এবার সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার শুরু সখীপুরের কলতান বিদ্যানিকেতনের একদল শিক্ষার্থীকে নিয়ে। এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের ঠিক আগেই সহপাঠী নাঈমের মা লাইলী বেগমের শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। নাঈমের বাবা জীবিকার তাগিদে ধারদেনা করে কাতারে গেলেও কাজ না পেয়ে সেখানে বিপাকে পড়েন। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসা—পরিবারটি যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই দেবদূত হয়ে পাশে দাঁড়ায় নাঈমের সহপাঠী ইমরান, জাহিদ ও আপনসহ অন্যরা।
এসএসসি পাসের আনন্দের মিষ্টির বাজেট কাটছাঁট করে এবং শিক্ষক ও অন্য সহপাঠীদের সহযোগিতায় তারা ৪০ হাজার টাকা নাঈমের পরিবারের হাতে তুলে দেয়। গত ১৭ আগস্ট এই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে দৈনিক মানবকণ্ঠ অনলাইনে ‘মিষ্টির আনন্দ বিসর্জন দিয়ে সহপাঠীর ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের পাশে শিক্ষার্থীরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা দ্রুত দেশজুড়ে সাড়া ফেলে। সংবাদটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি অসুস্থ লাইলী বেগমের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ আর্থিক সহায়তা দ্রুতই অসুস্থ লাইলী বেগমের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কলতান বিদ্যানিকেতনের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগে আমি গর্বিত। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসায় এবং তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় নাঈমের পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।’
বর্তমানে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের পাশে থাকা নাঈম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সহযোগিতার খবর তাদের পরিবারকে নতুন করে শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে।
ডিআর




Comments