বিএলআরআইতে ‘জাহাঙ্গীর-নাসরিন’ দম্পতির অনিয়ম-দুর্নীতি, পুনর্বহাল নিয়ে নানা প্রশ্ন
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন ও তাঁর স্ত্রী, সাবেক পরিচালক (গবেষণা) ড. নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে, ড. নাসরিন সুলতানার সাময়িক বরখাস্তের পর রহস্যজনকভাবে দ্রুত পুনর্বহালের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড. জাহাঙ্গীর হোসেন মহাপরিচালক থাকাকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বড় বড় নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। তাঁর স্ত্রী ড. নাসরিন সুলতানা পরিচালক (গবেষণা) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন প্রকল্পের মোটা অংকের বরাদ্দ নিজের নামে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪—এই তিন অর্থবছরে মোট ৭৭ লাখ টাকার প্রকল্প ড. নাসরিন সুলতানার নামে গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমানে তদন্তের দাবি উঠেছে।
ড. নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে নিয়োগ-বাণিজ্যেরও। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়োগে অর্থ দাবির অডিও রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় তাঁর নাম আসে। এছাড়া প্রশাসনিক আদেশ অমান্য করে পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তদন্তে অনিয়ম, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ায় গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে মাত্র মাস খানেকের মাথায় ২ মার্চ ২০২৬ তাঁর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনর্বহাল করা হয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই পুনর্বহালের সিদ্ধান্তটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবের শেষ কর্মদিবসে তড়িঘড়ি করে কার্যকর করা হয়। এই দ্রুত পুনর্বহাল ও পুনঃতদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিএলআরআইয়ের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, বিএলআরআইয়ের মর্যাদা রক্ষায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলোর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বর্তমান মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, “পুরো বিষয়টি প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আমার কোনো ব্যক্তিগত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।”
তবে অভিযুক্ত ড. নাসরিন সুলতানা ও ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিআর




Comments