Image description

রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার মধ্যেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। আব্দুল হান্নান (৩৯) নামে ওই ব্যবসায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম উল্লেখ করেছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রামেক হাসপাতালের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে চলতি আগস্টে রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হলো। এর আগে গত ১১ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়।

এদিকে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ১৭ জন বাড়ি ফিরেছেন।

দুই মাসে এডিসের ঘনত্ব দ্বিগুণ

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ার পাশাপাশি রাজশাহী নগরীতে এডিস মশার উপস্থিতিও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ কীটতাত্ত্বিক জরিপে নগরীর পাঁচ এলাকায় এডিস মশার ব্রেটো সূচক পাওয়া গেছে ৬১ দশমিক ৩৩। গত মে মাসে এ সূচক ছিল ৩০ দশমিক ৬৬। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে এডিস মশার প্রজনন ঘনত্বের সূচক দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো এলাকায় ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হলে সেটিকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে হিসাবে রাজশাহী নগরীর বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

বৃষ্টিতে বাড়ছে প্রজননস্থল

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল বাড়ছে। বাড়িঘরের আশপাশ, নির্মাণাধীন স্থাপনা, পরিত্যক্ত পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকাতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের প্রস্তুতি রয়েছে। বৃষ্টির সময়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি জানান, ৩০ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে আব্দুল হান্নান হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ১৭ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন। বর্তমানে ৪৭ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা প্রস্তুত রাখাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ, এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় এডিস মশার ঘনত্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও আরও বাড়তে পারে।

এসএ