পটুয়াখালীর মহিপুরে এক প্রবাসীর সঙ্গে নাম ও পরিচয়ে মিল থাকায় মো. জলিল হাওলাদার (৪৭) নামে এক নিরপরাধ জেলেকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ১৮ দিন কারাভোগের পর অবশেষে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ধার্য তারিখে সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
ভুক্তভোগী জলিল হাওলাদারের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর বাদশা জানান, অর্থ প্রতারণার একটি মামলায় প্রকৃত আসামি বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন। কিন্তু আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের ঠিকানার সঙ্গে মিল থাকায় পুলিশ এই জেলেকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে সত্যতা উপস্থাপনের পর বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে মহিপুর থানার এএসআই শহিদুল ইসলাম জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন। ওই সময় তার পরিবার ও স্থানীয়রা বারবার দাবি করেন যে জলিলের নামে কোনো মামলা নেই, কিন্তু পুলিশ তা উপেক্ষা করে তাকে আদালতে পাঠায়। এরপর থেকে তিনি পটুয়াখালী জেলা কারাগারে ছিলেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া জলিল হাওলাদার (৪৭) বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামের আব্দুল মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে। অন্যদিকে, মামলার প্রকৃত আসামি একই গ্রামের হলেও তার বয়স ৩৫ বছর এবং মায়ের নাম মাজেদা বেগম। প্রকৃত আসামি ২০২৩ সাল থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে তার বাবা ও বড় ভাই নিশ্চিত করেছেন।
২০২৩ সালের মে মাসে পটুয়াখালীর সেহাকাঠি গ্রামের আলমগীর হোসেন অর্থ প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার বাদীও স্বীকার করেছেন যে, তিনি জানতেন আসামি দেশের বাইরে আছেন এবং পুলিশকে তিনি আসামির সঠিক জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সরবরাহ করেছিলেন।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার অনিচ্ছাকৃত ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপিতে আসামির মায়ের নাম বা মোবাইল নম্বর না থাকায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে ভুল বুঝতে পারার পর তাকে আইনি সহায়তা দিয়ে মুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
ডিআর




Comments