Image description

দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ঢাকার ধামরাইয়ে ধলেশ্বরী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার পরও নির্ধারিত স্থান নিয়ে আপত্তি তুলেছেন এলাকাবাসী। বর্তমান বাঁশের সাঁকোর স্থান থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিটার দূরে সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ায় এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ফোর্ডনগরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েকশ নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। পরে সেতুর স্থান পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন ও ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর প্রায় দুই যুগ নৌকায় ধলেশ্বরী নদী পারাপার করতে হয়েছে। পরে নৌকার পরিবর্তে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলে সেটি দিয়েই মালামালসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষ নদী পারাপার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন নদীর দুই পাড়ের প্রায় ২০ গ্রামের বাসিন্দারা।

অবশেষে সেতু নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও নির্ধারিত বাঁশের সাঁকোর স্থান থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিটার দূরে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তে তারা হতাশ হয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে নদী পারাপারে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার ঘুরে সেতু ব্যবহার করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বটতলা পয়েন্টে থাকা বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কৃষকরা কৃষিপণ্য নিয়ে নদী পারাপার করেন। এ স্থানেই সেতু নির্মাণ করা হলে সবচেয়ে বেশি মানুষ এর সুবিধা পাবেন। কিন্তু জনবহুল স্থান থেকে দূরে ফাঁকা জায়গায় সেতু নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া কঠিন হবে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে একটি স্থায়ী সেতুর জন্য অপেক্ষা করছেন এ অঞ্চলের মানুষ। সেতুর বরাদ্দ পাওয়ার পর যে আনন্দ তৈরি হয়েছিল, স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে তা হতাশায় পরিণত হয়েছে। তাই বর্তমান বাঁশের সাঁকোর স্থানেই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জুলকারনাইন জামে মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুল্লা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, আলোকিতপুর নগর সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিনসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

এসএ