কুষ্টিয়ার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ বিন-হাসান। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম।
সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ (কুষ্টিয়া সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।
এ ছাড়া কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমিসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন।
সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চোরাচালান প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় অশ্লীল নাচ-গান ও উচ্চস্বরে গানবাজনা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় কুষ্টিয়া শহরের সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা, যানজট ও অপরিচ্ছন্নতা নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে সম্ভাব্য নদীভাঙন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ও এর আশপাশসহ মাদকের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, একদিন অভিযান চালিয়ে কয়েকদিন নিষ্ক্রিয় থাকলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে এবং মাদকের বিস্তার কমবে।
এ ছাড়া ইভটিজিং প্রতিরোধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহরের ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতি শনিবার মনিটরিং করার কথা জানান।
সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসএ




Comments