রাজশাহীর বাজারে তিন দিকের চাপ
পদ্মার পানিতে সবজির সরবরাহে টান, বেগুনে কেজিতে বেড়েছে ১০–১৫ টাকা; চড়া ডিম-মুরগি-মাছের দামও
একদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে কমছে না ডিম ও মুরগির চড়া দাম, অন্যদিকে পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে সবজির বাজারে। চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী কিছু এলাকার সবজি খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সরবরাহে টান পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বেগুনের বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকায়। একই সঙ্গে অধিকাংশ মাছও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে একসঙ্গে কয়েক দিকের চাপে পড়েছেন রাজশাহীর সাধারণ ক্রেতারা।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে নগরীর সাহেববাজার, খড়খড়ি বাইপাসসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বেগুনে সবচেয়ে বেশি চাপ
বাজার ঘুরে দেখা যায়, শসা ৫০-৬০, করলা ৫০, আলু ২০-২৫, পেঁয়াজ ৪৫-৫০, পটল ৩০, ঢেঁড়স ৩০-৪০, বেগুন ৯০-১১০, ফুলকপি ৬০-৭০, ঝিঙা ৪০, চিচিঙ্গা ৪০-৫০, বরবটি ৬০-৭০, কচুর লতি ৬০, কাঁচা পেঁপে ২০ এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০, ওল ৫০, লাউ প্রতিটি ৩০ এবং চালকুমড়া ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজর ১৪০ ও টমেটো ১৪০-১৫০ টাকা কেজি। আদা ১৮০, নাটোরের রসুন ৮০ এবং দেশি রসুন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব পণ্যের বেশিরভাগের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে সামগ্রিকভাবে সবজির বাজার এখনো ক্রেতাদের স্বস্তি দেওয়ার মতো অবস্থায় আসেনি।
খরখড়ি বাইপাসের সবজি বিক্রেতা আক্কাস উদ্দিন বলেন, ‘গত সপ্তাহের মতো এবারও সবজির বাজার চড়া। তবে বেগুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। অন্য সবজির দামও কমেনি।’ ব্যবসায়ীদের দাবি, উজান ও ফারাক্কা বাঁধের পানির প্রভাবে পদ্মায় পানি বেড়েছে। এতে রাজশাহীর চরাঞ্চলসহ নদীতীরবর্তী কিছু এলাকার জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে সবজির সরবরাহ কমেছে। সরবরাহে টান পড়ায় কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে।
‘প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই বাড়তি’
বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, শুধু বেগুন নয়, রান্নাঘরের প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই আগের তুলনায় বাড়তি। শরিফুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘কিছুদিন আগেও যে সবজি ৩০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটি ৫০-৬০ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও বেশি।’ আরেক ক্রেতা মিলন বলেন, সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা এখনো ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। তবে কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বাজারদর বেড়েছে বলে জানান তিনি।
কমেনি ডিম-মুরগির উত্তাপ
সবজির বাজারে নতুন চাপ তৈরি হলেও ডিম ও মুরগির বাজারে কয়েক সপ্তাহের চড়া দাম এখনো অব্যাহত রয়েছে। শনিবারও আগের সপ্তাহের তুলনায় তেমন কোনো স্বস্তি দেখা যায়নি। বাজারে দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫-৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০, ফার্মের লাল ডিম ৪৮-৫০ এবং সাদা ডিম ৪৪-৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৮০-২০০, সোনালি ২৭০-২৮০, দেশি মুরগি ৫৫০, সাদা লেয়ার ২৯০, লাল লেয়ার ৩৪০, ফাউমি ৩৩০ এবং হাঁস ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মোহনপুরের ডিম ব্যবসায়ী তোরাব আলী বলেন, ‘দুই-তিন সপ্তাহ ধরেই ডিমের দাম বাড়তি। আগে ৩৬-৩৮ টাকা হালিতে যে সাদা ডিম পাওয়া যেত, এখন তা ৪৬ টাকা। লাল ডিম ৫০ টাকা হালি। খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি।’ খরখড়ি বাইপাসের মুরগি ব্যবসায়ী এনামুল ইসলাম বলেন, ‘এই সপ্তাহেও মুরগির দাম কমেনি। বরং কোনো কোনো মুরগির দাম ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্রয়লার ১৮০-১৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। দেশি, সোনালি ও অন্যান্য মুরগির দামও চড়া।’
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই
নগরীর মাছের বাজারেও বাড়তি দামের চাপ রয়েছে। রুই ২৭০-৩৫০, কাতলা ৩০০-৪৫০, তেলাপিয়া ১৭০-২৫০, পাঙাশ ১৮০-২২০, চাষের কৈ ২০০-২৫০, চাষের শিং ৩০০-৩৫০, টেংরা ৬০০-৭০০, বোয়াল ৬৫০-৮০০, চিংড়ি ৬৫০-৯০০ এবং কোরাল ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি কৈ ৮০০ থেকে ১ হাজার, দেশি শিং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মেসের শিক্ষার্থীদেরও বাড়তি খরচ
বাজারদরের এই চাপ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নগরীর বিভিন্ন মেসে থাকা শিক্ষার্থীরাও। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদিনই বাজার করতে হয়। গত কয়েক সপ্তাহে সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও এবার কিছুটা বেড়েছে। বৃষ্টি ও নদীর পানির প্রভাবেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। সব মিলিয়ে রাজশিয়ার বাজারে একদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ীভাবে চড়া ডিম ও মুরগির দাম, অন্যদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে কয়েকটি সবজির সরবরাহ কমে নতুন করে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে। মাছের বাজারেও কমেনি বাড়তি দামের চাপ। ফলে নিত্যদিনের খাবারের তালিকা ঠিক রাখতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে আগের তুলনায় বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
এসএ




Comments