Image description

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের মাওয়া পুরাতন ঘাট এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ইজিবাইক গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল গ্যারেজে প্রবেশ করে নৈশপ্রহরী ও চার ইজিবাইক চালককে হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে। পরে ২৩টি ইজিবাইক থেকে প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি ব্যাটারি খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওয়া পুরাতন ঘাট সংলগ্ন মোহাম্মদ ফারুকের ইজিবাইক গ্যারেজে গভীর রাতে একদল লোক প্রবেশ করে। এ সময় গ্যারেজে দায়িত্ব পালনরত নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। পরে গ্যারেজে থাকা ২৩টি ইজিবাইক থেকে একে একে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি খুলে নেয় তারা।

ভোররাতে কয়েকজন ইজিবাইক চালক গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার জন্য গ্যারেজে প্রবেশ করলে তাদেরও জিম্মি করা হয়। পরে চার চালকের হাত-পা বেঁধে রেখে লুট করা ব্যাটারি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দলটি।

সিসি ক্যামেরা না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চালক ও স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ইজিবাইক গ্যারেজে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট গ্যারেজে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি কেন এবং গ্যারেজে নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে কি না—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

ব্যাটারি চোরচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাওয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ ব্যাটারি চুরি ও ডাকাত চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, চক্রটি দুটি পিকআপ ব্যবহার করে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ ব্যাটারি সরিয়ে নেয়। এর আগেও কয়েকটি গ্যারেজে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন। চক্রটির সঙ্গে কারা জড়িত এবং লুট করা ব্যাটারিগুলো কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

গ্যারেজ মালিক রিহ্যাবে, উঠছে নানা প্রশ্ন

জানা গেছে, গ্যারেজের মালিক মো. ফারুক বর্তমানে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাব) ভর্তি রয়েছেন। এ অবস্থায় গ্যারেজের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ভেতরের তথ্য বাইরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, গ্যারেজের অবস্থান, ব্যাটারির সংখ্যা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস পুলিশের

ঘটনার পর পদ্মা সেতু উত্তর থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনা ও তদন্তের বিষয়ে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘খুব দ্রুতই চোর ধরা পড়বে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার, লুট হওয়া ব্যাটারি উদ্ধার এবং ইজিবাইক গ্যারেজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত ইজিবাইক চালকেরা।

এসএ