বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অসুস্থ স্বজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে এবং অন্য এক স্বজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় পৃথক দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সোয়া ৪টার দিকে বগুড়া শহরের ঠেঙ্গামারা এলাকায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এবং সকাল ১০টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাট এলাকায় পৃথক সময় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মজনু মেম্বারের ছেলে সাপিকুল (৪০), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আরাফাত (৪০) এবং কাহালুর বানদিঘী এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বেগম (৫১)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দিবাগত রাতে পাইকড় ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি হঠাৎ স্ট্রোক করেন। দ্রুত তাকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রওনা দেন তার ভাই নজরুল, ভাতিজা আরাফাত, প্রতিবেশী রফিকুল ও সাপিকুল। ভোর সোয়া ৪টার দিকে অটোরিকশাটি হাসপাতালের প্রধান ফটকে প্রবেশের সময় একটি দ্রুতগতির দূরপাল্লার নাইট কোচ বাস অটোরিকশাটিকে বেপরোয়া গতিতে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী সাপিকুল ও আরাফাত নিহত হন। এ ঘটনায় আশরাফুল, রফিকুল ও নজরুল গুরুতর আহত হলে তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনরা জানিয়েছেন, আহত আশরাফুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
পাইকড় ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেদ জানান, নিহত ও আহতরা সবাই তাঁর নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশী। স্ট্রোক করা রোগীকে বাঁচাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাট এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি। শাজাহানপুর থানা পুলিশ জানায়, স্বজনদের একজন সদস্যের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে কাহালুর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন খাদিজা বেগমসহ স্বজনেরা। পথিমধ্যে রানীরহাট এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগামী অ্যাম্বুলেন্সটি চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং একটি সেতুর কংক্রিটের রেলিংয়ে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান খাদিজা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইস উদ্দিন ও শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক দুই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এ সকল মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
ডিআর




Comments