Image description

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মেট্রো সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডে অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পরিচালনা করা এই বিশেষ অভিযানে অবৈধভাবে চলাচলকারী ৭টি মেট্রো সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয় এবং অপর ৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযান শেষে আনোয়ারা উপজেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) আশিক রহমান বলেন, ‘‘এই অবৈধ মেট্রো সিএনজিগুলোকে আমরা প্রতিনিয়তই আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নিই। তবে এদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে শিকলবাহা নতুন ব্রিজ, মইজ্জারটেকসহ মূল প্রবেশদ্বারগুলোতে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করতে হবে। তাছাড়া আমরা গাড়ি আটক করলেই প্রভাবশালীদের পাশাপাশি পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফোন করে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনৈতিক তদবির চালানো হয়।’’

ট্রাফিক পরিদর্শকের এমন চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের পর স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়ানো এই পরিচয়ধারী প্রভাবশালী চক্রটি আসলে কারা? সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগটির সুষ্ঠু যাচাই প্রয়োজন। কারণ প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর যদি অনৈতিক প্রভাবে বা পরিচয়ের জোরে তা শিথিল করা হয়, তবে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের সব সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাতরী চৌমুহনী এলাকায় অননুমোদিত মেট্রো সিএনজির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও একাধিকবার পুলিশি অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই জরিমানা বা গাড়ি জব্দের কয়েকদিন পর অজ্ঞাত কারণে আবারও সেগুলো রাস্তায় নেমে পড়ে। তাই কেবল চাতরী চৌমুহনীতে অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে সিএনজি প্রবেশের সব রুট ও মোড়গুলোতে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট বসানোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্যস্ততম চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় অনুমোদনহীন মেট্রো সিএনজির অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র চলাচলের কারণে সারাদিন তীব্র যানজট লেগে থাকে। ফলে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, শুধু একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশমুখ নতুন ব্রিজ, মইজ্জারটেকসহ আনোয়ারার সংযোগ সড়কগুলোতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রুটের পারমিট যাচাই করে অবৈধ সিএনজির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ডিআর